আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে অনেকদিন ধরেই নতুন অর্থনৈতিক আদান-প্রদান ব্যবস্থা চালু করার চিন্তা করছে আন্তঃদেশীয় জোট ব্রিকস। দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর জোটটি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৫৯টি দেশ তাদের প্রস্তাবিত নতুন এই অর্থ বিনিময় পদ্ধতি গ্রহণে সম্মত হয়েছে। আগামী মাসে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত হবে ৯ দেশের এই জোটের সম্মেলন। সেখানে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ও বিশ্ব জুড়ে ডলারের বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে নতুন এই নতুন অর্থনৈতিক বিনিময় পদ্ধতি চালু করতে চায় ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এই পদ্ধতির আওতায়, ডলারের পরিবর্তে দেশগুলো নিজস্ব মুদ্রায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতে ডলারের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ যেমন কমবে, তেমনি বাণিজ্য প্রসারে নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে বলে মনে করছে ব্রিকস সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের শুরুতে এই পদ্ধতি প্রণয়নের কথা জানিয়েছিল ব্রিকস। আর তাতে আশানুরূপ সাড়া পেলে, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন ব্রিকসের নেতারা। তেমনটি হলে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত জনপ্রিয় অর্থ আদান-প্রদান ব্যবস্থা সুইফটের জন্য সেটি হবে বড় এক ধাক্কা। এতে ডলারের চাহিদা কমার পাশাপাশি জোটটির সদস্য ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশেই। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আধিপত্য হারাবে যুক্তরাষ্ট্র।
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা মিলে এই আন্তঃদেশীয় জোট গঠন করে। মূলত নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ নানা উন্নয়নে অংশীদারত্বের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে ব্রিকস। পরে জোটটিতে যোগ দেয় ইরান, মিসর, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।