বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে তুলেছেন আগেই। এবার সুযোগ এসেছে পরম আরাধ্য সাদা জার্সিটি গায়ে তোলার। বাংলাদেশ টাইগার্সের হয়ে ইসলামাবাদে ১৭২ রানের অনবদ্য ইনিংসটি চোখে লেগেছে নির্বাচকদের। ভারত সফরের টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার পর মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের আকাঙ্খা-স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন জাকের, ‘অবশ্যই খুব ভালো একটা অনুভূতি। সবারই স্বপ্ন থাকে টেস্ট ক্রিকেট খেলার। সেটার জন্য দলে সুযোগ পেয়ে অবশ্যই ভালো লাগছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমি ২০১৭ সাল থেকে খেলছি। যে সংস্করণই হোক, ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি ভালো করার চেষ্টা করি। ওরকম প্রক্রিয়ায়ই এগোই।’
গত বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জার্সিতে আলো কেড়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন জাকের আলী অনিক। বিপিএল শেষেই ছিল শ্রীলঙ্কা সিরিজ। মিনহাজুল-হাবিবুলদের আগের নির্বাচক কমিটির দেওয়া বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের দরজা তবুও খোলেনি। তখন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সুযোগ না পাওয়ায় নির্বাচকদের বিবেচনাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এর মাঝে বদলে যায় নির্বাচক প্যানেল। প্রধান নির্বাচক পদে আসীন হন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। আলিস আল ইসলাম চোটে ছিটকে গেলে জাকের সুযোগ পান জাতীয় দলে। ভারতে একাদশে জায়গা পাবেন কি না এখনো নিশ্চিত নয়। পেলে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত কি না প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্কোয়াডে নির্বাচিত যেহেতু হয়েছি, উনারা প্রস্তুত মনে করেছেন বলেই নিয়েছেন। এখন আমার দায়িত্ব, নিজের সেরা পারফরম্যান্স। তাদেরকে (ভারতীয় বোলার) নিয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা হচ্ছে, যারা যারা খেলবে। নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে এই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে রান করা গেলে আমার মনে হয় অনেক ভালো কিছু হবে।’
২০১৭ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে আসা জাকের কষ্ট পান জাতীয় লিগকে পিকনিক লিগ ডাকায়, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার খুবই কষ্ট লাগে, অনেকে বলে যে, পিকনিক ক্রিকেট। এই জিনিসটা খুব কষ্ট লাগে। আমরা জানি, আমরা কতটা কষ্ট করে খেলি ক্রিকেটার হিসেবে। তাই দয়া করে এই কথাগুলো বলবেন না। আমি এই কথায় খুব দুঃখ পাই। আমি ২০১৭ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলি। আমি জানি, আমার কতটা কষ্ট হয়। একেকটা রান করতে কতটা কষ্ট হয়েছে। তাই সবার কাছে অনুরোধ থাকবে। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা অনেক কষ্ট করি। আরও কষ্ট করব ইনশাআল্লাহ্। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দিনে দিনে উন্নতি হচ্ছে। আরও হবে।’
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারানো। বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি কিছু দিন আগেও বললাম, আমরা যে দুইটা ম্যাচ জিতলাম, আধিপত্য দেখিয়ে জিতে আসা, এটা তো অবশ্যই কালচার বদলানোর একটা আভাস। আর হ্যাঁ, দলে সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। চেষ্টা করব সেরাটা দেওয়ার।’ এই ধারাবাহিকতা ভারতেও থাকবে বলে বিশ্বাস জাকেরের, ‘ অবশ্যই দেখেন, যেহেতু সবশেষ সিরিজটা খুব ভালো গিয়েছে, সেই আত্মবিশ্বাস তো অবশ্যই থাকবে। আমার মনে হয়, এই বছর আমাদের চেষ্টা থাকবে, যেটা আমরা দল হিসেবে আগে কখনও করতে পারিনি, সেটা করার চেষ্টা থাকবে।’
বুমরা-অশ্বিনদের সামলানো প্রসঙ্গে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো সব দিক দিয়ে থাকবে। তাদের ব্যাটিং লাইন-আপও তো অনেক ভালো। আমরা যদি ব্যাটিং বিভাগ হিসেবে ভালো করতে পারি। সবশেষ দুইটা টেস্ট যদি দেখেন, আমরা সব কিছুতেই ভালো করেছি, বিশেষ করে ব্যাটিংটা কিন্তু ভালো ছিল। আমরা স্ট্রাগল করি ব্যাটিং নিয়েই। ব্যাটিং যখন খারাপ হয়, আমরা হেরে যাই। বোলাররা বেশিরভাগ সময় সাপোর্ট করে। আমরা ব্যাটিংটা যদি ভালো করতে পারি, আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে।’
নিজেদের গড়ে ওঠার পেছনে দেশের কোচদের অবদান সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জাকের, ‘সবশেষ কয়েকটা দিন যে আমরা অনুশীলন করলাম... সোহেল স্যার, বাবুল স্যার। উনারা অনেক পরিশ্রম করেছেন। দুই শিফটেও কাজ করেছেন। সকাল বেলা আমাদের লাল বলের ক্রিকেট দেখেছেন। বিকেলে আবার সাদা বলের ক্রিকেট দেখেছেন। উনার কী পরিমাণ কষ্ট করছেন, আপনারা বোঝেন। অবশ্যই ঘরোয়া কোচদের অবদান থ্যাংকলেস বলা যায়। উনাদের সেভাবে হাইলাইট করা হয় না। কারও নাম ধরে বলতে চাই না। সবারই অবদান আছে। প্রত্যেকটা কোচের সঙ্গে আমার কাজ করা হয়েছে। সবাইকে ছোটবেলা থেকে চিনি। উনারা আমাদের খুঁটিনাটি সব জানেন। উনাদের সঙ্গে ফ্রি-লি কাজ করা যায়।’ ভারতে যদি সুযোগটা পেয়েই যান তাহলে, ‘লক্ষ্য ওই তো, সুযোগ পেলে নিজের সেরা পারফরম্যান্স করা, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা।’