সালাউদ্দিনকে ধিক্কার জানিয়েছিলেন পাপন, পরে মিটমাটও হয়েছিল

বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিসিবি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। এদিকে আজ শনিবার কাজী সালাউদ্দিনও আগামী বাফুফে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এক বছর আগেই সালাউদ্দিন আর পাপনের মাঝে তুমুল কথার লড়াই হয়েছিল।

২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল। ‘টাকার অভাবে’ মায়ানমারে গিয়ে ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের বাছাইপর্ব খেলতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ইস্যুতে দেশের ফুটবলে তখন তোলপাড় চলছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত ঘটনা গড়িয়েছিল। এমন সময়েই ৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে পাপনকে খোঁচা মেরে সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘মেয়েরা সাফল্য পেলে প্রধানমন্ত্রীসহ আর্মি চিফসহ সবাই সাহায্য করে থাকে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ফুটবলেরও প্রিয়। সবার ব্যক্তিত্ব তো এক না। আমি তো লোক দেখিয়ে বলব না, ‌'এই প্রধানমন্ত্রী ফোন দিয়েছে!’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাতেন। পাপনও এসব কথা গণমাধ্যমে ফলাও করে বলতেন, যা হয়তো সহ্য করতে পারেননি সালাউদ্দিন। তিনি পাপনের খেলোয়াড়ী ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকার বিষয়েও খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ওই রকম না। আপনাদের বুঝতে হবে। আমি ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত। আমি ওই নাটক করতে পারব না।’

এর চার দিন পর ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট শেষে মিরপুরে সালাউদ্দিনকে ধুয়ে দিয়েছিলেন পাপন, ‘যে যত কথাই বলুক, এসব নিয়ে আমি মন খারাপ করি না। তবে আমার কাছে সবচেয়ে খারাপ লাগছে মেয়েরা (অলিম্পিক বাছাই) যেতে পারল না! তাও মাত্র ২০ লাখ টাকার জন্য! এর চেয়ে দুঃখ, কষ্ট… মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী কষ্টটাই না পেয়েছেন! এই যে আপনাদের চ্যানেলগুলা (মিডিয়া) আছে না, তাদের কারও মালিকের কাছে বললেই তো দিয়ে দিত। আমাদের খেলোয়াড়েরাই তো দিত! বলত একবার।’

ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে পাপন বলেছিলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ডে, ফুটবল বোর্ডে যে সমস্ত পরিচালকরা আছে, তারা ২০ লাখ টাকা দিতে পারবে না! তাদের অনেকের দৈনিক খরচই তো ২০ লাখ টাকা। আমার কাছে এটা আশ্চর্য লাগে। আমার মনে হয় কোনো ঘটনা আছে… আমি জানি না। আমার কাছে খব আশ্চর্য লাগে। দুঃখজনক। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় বদনাম…. দেশের বদনাম…. আর কিছু হয় না। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর হয় না। এদের সাথে কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না।’

কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও এর কয়েকমাস পরই কথা বলেছিলেন পাপন। গত ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান পাপন। ওই সময়েই সালাউদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিনকে দেখতে তার বাসায় গিয়েছিলেন পাপন। দুজনের বৈঠক শেষে বেরিয়ে পাপন সব বিবাদের ইতি টেনেছিলেন।

সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে সেদিন পাপন বলেছিলেন, ‘এত বছরের সম্পর্ক একদিনের কথায় তো নষ্ট হয় না। যা কিছুই হয়েছে, সম্পর্ক তো আর শেষ হয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকে মাঠে যেতামই তো ওনার খেলা দেখতে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো পথ নেই। ওনার মতো কিংবদন্তি ফুটবলার তো আর নেই। ছোটবেলা থেকেই মাঠে যেতাম খেলা দেখতে ওনার জন্য, সে জিনিসটা তো আছেই। হ্যাঁ অনেক সময় অনেক কথায় উনিও কষ্ট পেতে পারে আমিও পেতে পারি। একটা রিঅ্যাকশন করলাম দিলাম সেটা ওখানেই শেষ। সম্পর্ক তো শেষ হবে না।’