কোটা আন্দোলনে অনেকেই মানসিক ট্রমায় ভুগছেন

সম্প্রতি কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। যা স্বল্পমেয়াদি থেকে দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আঁচল ফাউন্ডেশন। সে বিবেচনায় আক্রান্তদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রতি ছয়টি প্রস্তাবনা রেখেছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবনাগুলো হলো মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে গণ-মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স তৈরি। মানসিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সমস্যাগুলো উদঘাটন করে সমাধানের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা; জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদের তালিকা তৈরি করে মানসিক সেবা প্রদান করা। আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যকে সরকারি/বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করা; প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং মনোবিজ্ঞানী/মনোচিকিৎসক এই দুইয়ের সমন্বয় করে জেলা-উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য কর্নার তৈরি করা। প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষ জনবলে রূপান্তর করা এবং প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সচল রাখা; স্কুল, কলেজ, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা এবং বিশ^বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য ট্রমা রিকভারির কর্মশালা এবং মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা; সরকারি উদ্যোগে একটি ‘হটলাইন সেবা’ চালু এবং গবেষণা সেল গঠন। এ ছাড়া বায়োইনফরমেটিকস ব্যবহার করে সেবা প্রদান-পরবর্তী পুরো সময়ের গবেষণালব্ধ তথ্য জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ করার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেন, আন্দোলনে আহত বা প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই আন্দোলনের পর আর ঘুমাাতে পারছেন না। বারবার বন্ধু বা আশপাশের মৃত্যুর স্মৃতিগুলো তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি তাহসেন রোজ বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ মনোযোগ প্রদান না করলে, এ প্রবণতা সামাজিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।