কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগ দাবি অনেক দিনের। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। কণ্ঠ তুলেছিলেন দেশের ফুটবলের অনেক তারকা। কিন্তু কাজী সালাউদ্দিন আরও একবার বাফুফে সভাপতি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণাকে অনেকে রাহুমুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাবেক বরেণ্য ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু বলেছেন, ‘আগে যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে নির্বাচন করবেন তখন হয়তো ভেবেছিলেন নিজের ইমেজ দিয়ে পার পেয়ে যাবেন। এখন তিনি যে এটা অনুধাবন করতে পেরেছেন সেটাই বড় ব্যাপার।’
নতুনের কাছে প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে টিপু বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের ফুটবলের যে অবস্থা, আমাদের তো কোনো স্ট্রাকচারই নেই। বাফুফের কোনো নিজস্ব মাঠ নেই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম রেনোভেশন হয়েই চলেছে। এটার কাজ কবে শেষ হবে তা ঈশ্বর জানেন। এছাড়া ডিএফএ করে বাংলাদেশ ফুটবলের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। মফস্বলের খেলাগুলোও হয়নি এরকম বিভিন্ন কারণে। এ জায়গাগুলো ঠিক না হলে মানুষ পরিবর্তন করে কী হবে আমি তা জানি না। জেলা শহরের খেলাগুলো চললেই আমার মনে হয় দেশের ফুটবলে প্রাণ ফিরে আসবে।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ আসলামও মনে করেন সারা দেশে লিগ বন্ধ করে কোনোদিন ফুটবলের উন্নতি করা যাবে না। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেছেন, ‘উনি (কাজী সালাউদ্দিন) ১৫-১৬টি বছর ধরে এই চেয়ারে বসে তিলে তিলে ফুটবলটাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এর থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের যোগ্য নেতৃত্বের দরকার। যাতে করে বাংলাদেশের সব জায়গায় ফুটবলের সুবাতাস বয়ে যায়। যারা সমাজের প্রথিতযশা লোকজন আছেন, যারা দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন আজীবন, এদের মাধ্যমে নির্বাচিত বডি আসা উচিত। আমার মনে হয় অনেকে এর পেছনে কাজ করছেন। পুরাতনের তিরোধানে নতুনের আগমন হয় এটাই স্বাভাবিক। এখন যাতে করে যোগ্য নেতৃত্ব আসে তার জন্য যারা ভোটার আছেন তাদের প্রতি আমার আর্জি থাকবে।’
অন্যদিকে সালাউদ্দিন গংদের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ ফুটবল অঙ্গনের পুনর্গঠনকে নিজেদের এক দফা দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশের ফুটবল আলট্রাস। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অভি দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘কাজী সালাউদ্দিনের সরে যাওয়াটা যদি কোনো আইওয়াশ হয় কিংবা কোনো ডামি প্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচন করানোর কথা চিন্তা করে থাকেন সেটা প্রতিহত করার জন্য আমরা সোচ্চার আছি। আমরা মনে করি বর্তমানে দেশের ফুটবলের সব থেকে বড় স্টেক হোল্ডার আমরা তাই ফুটবলের উন্নতির পক্ষে কাজ করবে এমন লোকরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ না পেলে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত না হলে এই নির্বাচনের বিরোধিতা করার অধিকার আমাদের আছে।’