মার্কিন কর্মকর্তাদের গ্রাফিতির আর্টবুক উপহার

সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের গ্রাফিতি সম্পর্কিত একটি আর্টবুক উপহার দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বইটিতে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের দেয়ালে জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-তরুণদের আঁকা কয়েকটি সেরা শিল্পকর্মের ছবি রয়েছে।

গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এই আর্টবুক উপহার দেন বলে তার দপ্তরের প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের এই আর্টবুক প্রকাশের নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে গ্রাফিতির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এসব গ্রাফিতিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পাশবিক শক্তিকে প্রতিহত করতে নৃশংস এক বাহিনীর মুখোমুখি আন্দোলন-বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও যুবকদের দাবি-দাওয়া, আবেগ-অনুভূতি, আশা-আকাক্সক্ষা চিত্রিত হয়েছে।’

মার্কিন প্রতিনিধিদলকে উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি আপনাদের ঢাকার দেয়ালগুলো একবার ঘুরে দেখার অনুরোধ করব। এসব গ্রাফিতি এখনো রাজধানীর দেয়ালে-দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। এগুলো শুধু বিপ্লবের পরই নয়, আন্দোলন চলাকালেও শিক্ষার্থীরা সরকারি বাহিনীকে অমান্য করে এসব গ্রাফিতি আঁকেন।’

শিল্পকর্মের ব্যাখ্যা করে ড. ইউনূস বলেন, ‘তরুণ চিত্রশিল্পীরা দেয়ালকে শক্তিশালী ক্যানভাসে পরিণত করার পর ঢাকা বিশ্বের গ্রাফিতি রাজধানীতে পরিণত হয়। শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার জন্য তারা সেøাগান ও কবিতা লিখেছেন। এই বার্তাগুলো বিপ্লবের চেতনা এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের আকাক্সক্ষাকে প্রতিফলিত করে।’

প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনে বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে রঙ ও ব্রাশ কেনার টাকা ছিল না। জনগণ তাদের সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছিল।’

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সহকারী সচিব ব্রেন্ট নেইম্যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু, সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ, ইউএসএআইডির উপসহকারী প্রশাসক অঞ্জলি কৌর এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পরিচালক জেরোড ম্যাসন।