ডাবের পানি পছন্দ করেন না এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। গরম কিংবা শীত, সবসময়ই ডাবের পানি খেতে পছন্দ করেন সবাই। তবে গরমে এর চাহিদা থাকে বেশি। গরমে হাঁসফাঁস পরিস্থিতিতে শরীরে স্বস্তি এনে দিতে পারে ডাবের পানি।
আর তাই বাজারে তরল পানীয়ের তুলনায় স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সর্বদা সবার প্রথম পছন্দ ডাবের পানি। ডাবের পানি ইলেকট্রোলাইট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। যে কারণে এটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারী উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে জীবাণুরা সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। এছাড়া এই লো-ফ্যাটযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের উৎস, যা শরীরের ফ্যাট বার্ন করে পেশি গঠনে সহায়তা করে।
আর তাই অনেকেই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাবের পানি পান করে থাকেন, চলুন জেনে নেই প্রতিদিন কেনো ডাবের পানি খাবেন,
১. পুষ্টির ভালো উৎস
ডাবের পানি বিভিন্ন পুষ্টির শক্তিশালী উৎস। এটি লো-ফ্যাটযুক্ত পানীয় যাতে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়ামের মত বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ডাবের পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে ফিট রাখে।
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য
শরীরে প্রচুর পরিমাণে ফ্রি র্যাডিকেল বেড়ে গেলে তখন শরীর অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের অবস্থায় প্রবেশ করে, যা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে ডাবের পানিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিকেল ধ্বংস করে শরীর থেকে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল কমায়।
৩. রক্তচাপ
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকরী। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি উপাদান, ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে। হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে।
৪. হজমশক্তি বৃদ্ধি
নিয়মিত ডাবের পানি খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় এবং পেট পরিষ্কার থাকে। তাই শরীরের ভেতরে হজম না হওয়া খাবার মেদ হিসেবে জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।
৫. অধিক ফাইবার
এক কাপ ডাবের পানিতে তিন গ্রাম ফাইবার থাকে, যা অন্যান্য পানীয়র তুলনায় অনেক বেশি। ফাইবার পরিপাকের মাধ্যমে খাদ্য শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবার শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্মূল করে শরীর সুস্থ রাখে।
৬. ত্বকের উপকার
বলা হয়ে থাকে যে ডাবের পানিতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। ফলে এটি ব্রণ হওয়ার হাত থেকে ত্বক রক্ষা করতে পারে। এছাড়া ডাবের পানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিস্টেমকে উন্নত করতে সহায়তা করে। ফলে এটি ফ্রি রেডিকেল কমিয়ে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ দূর করতে সহায়তা করে। ডাবের পানি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
৭. চুলের উপকার
ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি, যা ত্বকের পাশাপাশি চুলের জন্যও ভীষণ উপকারী। এসব উপাদান চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
৮. গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি
গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি কিছু কিছু বিষয়ে বেশ উপকার করে। শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতির কারণে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
সতর্কতা
১. প্রতিটি জিনিসের ভালো ও মন্দ দুটি দিকই থাকে। ডাবের পানিরও সেটা আছে। নিয়ম করে ডাবের পানি খেতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে এটি খাওয়া যাবে না। তাতে বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২. অতিরিক্ত ডাবের পানি খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম উপাদানগুলো শরীরে বেড়ে গেলে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৩. কিডনি রোগীদের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাবের পানি ক্ষতির কারণও হয়। তাই কিডনি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডাবের পানি পান করা উচিত।
৪. ডাব কাটার সঙ্গে সঙ্গে পানি খেয়ে নিতে হবে। বেশিক্ষণ রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
৫. ডাবের পানিতে কোন কিছু না মিশিয়েই খাওয়া ভালো।