এক বিশ্বকাপ খেলেই 'কিংবদন্তী' স্কিলাচি আর নেই

১৬ ম্যাচে ৭ গোল। খুবই সাধারণ একটি পরিসংখ্যান। কিন্তু যদি বলা হয় এর ৬টি গোলই এক বিশ্বকাপে। তাহলে সেই গোলদাতার নামটা বিশেষ হয়ে থাকে, তাই না। সালভাতোরে "টোটো" স্কিলাচি তেমনই এক নাম। ১৯৯০ বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতা হিসেবে ইতালির হয়ে ছয় গোল করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন স্কিলাচি, স্বাগতিক ইতালিকে তার এসব গোলই সেমিফাইনালে তুলে নিয়েছিল। স্কিলাচি পেয়েছিলেন "গোল্ডেন বল" এবং বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। 

ইতালির ফুটবলের সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র আর নেই। কোলন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে হেরে গেছেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯। শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালিতে। “ইতালিয়ান ফুটবলের ‘ম্যাজিক রাত’গুলোর নায়ক ছিলেন স্কিলাচি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত' এক বিবৃতিতে বলেছে ইন্তার মিলান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্কিলাচির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেন, “একজন ফুটবল আইকন আমাদের ছেড়ে গেলেন। যিনি ইতালির এবং সারা বিশ্বের খেলাপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। ধন্যবাদ, আমাদের স্বপ্ন দেখানোর জন্য, উদযাপনের জন্য এবং জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য।”

রবার্তো ব্যাজ্জিওর সঙ্গে গোল উদযাপনে স্কিলাচি।

পালেরমোর বস্তি থেকে উঠে আসা এবং স্থানীয় এক দলে গোলপ্রতি মাত্র দেড় পাউন্ড করে আয় করা স্কিলাচি মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ইতালিয়া বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলে সুযোগ পেয়ে যান। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে না থাকলেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে উঠে জয়সূচক গোল করেন। এরপর টুর্নামেন্টে একে একে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, এবং সেমিফাইনালে গোল করেন। যদিও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় ইতালি, স্কিলাচি ততোক্ষণে জাতীয় নায়কে পরিণত হয়েছিলেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল, যা তাকে ওই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা দেয়।'

স্কিলাচি ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এত দ্রুত আমার নাম এত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে ভাবিনি। আমার নামেই মানুষ কুকুরের নাম রাখতো, এমনকি বিদেশে ইতালি থেকে আগত মানুষদের প্রথম প্রশ্ন হতো—'তোমরা কি স্কিলাচিকে চেনো?'''

৯০ বিশ্বকাপে গোলের পর 'চোখ বড় বড় করে' তার উদযাপন ” ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও অম্লান। টুর্নামেন্ট শেষে স্কিলাচির নাম সারা বিশ্বে আলোচিত হয়। তার স্মরণীয় উক্তি, “এটা সবসময় আমার জীবনের সঙ্গে থাকবে।”

তবে স্কিলাচির সাফল্যের দিনগুলি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিশ্বকাপের পর আর মাত্র একটি আন্তর্জাতিক গোল করতে পেরেছিলেন তিনি। এরপর ইনজুরি ও পারফরম্যান্সের পতনের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন।

যদিও বিশ্বকাপের পর চোট এবং ফর্মহীনতায় তিনি আর সেভাবে ফুটবলে ফিরে আসতে পারেননি, কিন্তু তার সাফল্য চিরকালীন।