শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক তিন সিইসি রাষ্ট্রদ্রোহের আসামি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নুরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন এক মুক্তিযোদ্ধা।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নগর-পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও একটি অভিযোগ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া আরও একটি হত্যা মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব মামলা ও অভিযোগে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, মো. জাবেদ আলী, আবদুল মোবারক, মো. শাহনেওয়াজ, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও আনিসুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মামলায় বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে।

একরামুল করিম নামের ওই মুক্তিযোদ্ধা চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী কফিল উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। যারা কমিশনে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নির্বাচনী মাঠে একপেশে আচরণ করেছে। বিপুল টাকা ব্যয়ে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, তাতে সংবিধানের খেলাপ করেছেন নির্বাচন কমিশনারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাই রাষ্ট্রদ্রোহ ও প্রতারণা মামলা করা হয়েছে।’

একই সঙ্গে এসব নির্বাচনে সংসদ সদস্য যারা নির্বাচিত হয়েছেন, অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করায় তাদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওই আইনজীবী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও অভিযোগ : ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৩৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যরা হলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের নেতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গত ১৮ জুলাই উত্তরার আজিমপুর, এবি সুপার মার্কেটের সামনে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র শেখ ফাহমিন জাফরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এ অভিযোগটি দাখিল করে ফাহমিনের পরিবার। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায় গতকাল পর্যন্ত ২৩টি অভিযোগ হলো।

আরও একটি হত্যা মামলা : শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে রাকিবুল ইসলাম নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে রাকিবুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আদালত প্রতিবেদক জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে মিরপুর মডেল থানা-পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই রাত ৯টায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় রাকিবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।