‘সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিরাপত্তা নিশ্চিতে’

দেশে একটি জনবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই মাসের জন্য সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে মাঠে ফিরিয়ে আনা হবে। এতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বরং জনগণই এর সুফল ভোগ করবে।

সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তথ্য উপদেষ্টা এবং জনপ্রশাসন সচিব পৃথকভাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গতকাল দুপুরে ব্রিফিংকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে দ্রুত ঠিক হয়ে যায়, জননিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়, আমরা যেহেতু একটি জরুরি পরিস্থিতিতে আছি, দেশ পুনর্গঠন করা লাগছে, সেহেতু সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

আগামী দুই মাসের জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ রিফর্ম (সংস্কার) করে আরও শক্তিশালী ও আস্থার জায়গায় নিয়ে এসে তাদের মাঠে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সুফল বাংলার জনগণ ভোগ করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনী অনেক দিন ধরে মাঠে থেকে জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোয় জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। সেটা পূরণের লক্ষ্যেই কাজ করছে সেনাবাহিনী।’

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনী একটি জনবান্ধব সুশৃঙ্খল বাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগাযোগে বা তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে সাধারণ জনগণের কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, মানুষ যাতে আরও জনবান্ধব পরিবেশে চলাচল করতে পারে, নিরাপদ বোধ করে, মানুষের মধ্যে যাতে আস্থা থাকে এজন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে সব পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘সব বাহিনী একই সঙ্গে একই ছাতার নিচে কাজ করছে, এই মেসেজটার জন্যই এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। কিন্তু ৫ তারিখের আগে আমি যাব না, সেই ব্যাখ্যা আমি দিতে চাই না। সেখানে অনেক ডিসপিউট আছে। আপনারা জানেন, ল এনফোর্সাররা কী ব্যবহার করেছেন, ম্যাসাকার করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করেছে বিস্তৃত পর্যায়ে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। তারা মনে করেছে, এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) হলে পারপাস অব দ্য গভর্নমেন্ট সিকিউরড দ্য সিটিজেন। উই আর সারভিং ফর দ্য স্টেট (আমরা দেশের সেবা করছি)। এই মুহূর্তে মনে হয়েছে এটা দরকার।’

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আছে, এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনো ক্যাডারের ক্ষমতা নয়, এটা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। কোনো দ্বন্দ্ব হবে না। এক রাষ্ট্র এক জনগণ এক সরকার। জনস্বার্থে আপনি কাজ করেন, আমি কাজ করি। এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) ভালো ফল দেবে।’

বিধির মধ্যেই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জনপ্রশাসন সচিব বিধিগুলো ভালোভাবে দেখে নিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ওইদিন থেকেই ৬০ দিনের জন্য সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এ ক্ষমতা সারা দেশে প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির যে ১৭ নম্বর ধারায় সেনা কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেখানে এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকার কথা বলা আছে।

তারা গ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তারের আদেশ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা, তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অসদাচরণ ও ছোটখাটো অপরাধের জন্য মুচলেকা আদায়, মুচলেকা থেকে অব্যাহতি, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ, স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বাধা অপসারণ এবং জনগণের ক্ষতির আশঙ্কা করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার করতে পারবেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।