হচ্ছে, হবে এমন আশার বাণীতে কেটে গেছে ৫৩ বছর। স্বাধীনতার পর সরকার পরিবর্তন হয়, কালের বিবর্তনে সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে, ব্যতিক্রম কেবল নারায়ণহাটের ১২ গ্রামের মানুষের ভাগ্যে। অন্তত ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে। সাম্প্রতিক বন্যায় পাহাড়ী ঢলে ভেঙে পড়েছে হালদা নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী সাঁকোটিও। এতে করে ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জীবন।
জানা যায়, সাঁকো ভেঙে পড়ায় নারায়ণহাট ইউনিয়নের ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জমিদার পাড়া, সুন্দরপুর, হাপানিয়া, রাজারটিলা, আনিচার খিল, খালাছি পাড়া, সন্দ্বীপ পাড়া সহ ১২ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালদা নদী পারাপার করছেন জন সাধারণ। হাজারো মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নারায়ণহাট বাজার সংলগ্নে হালদা নদীতে ২শ ফুট দৈর্ঘের একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুনাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এ গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণহাট ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীর দক্ষিণ পাশে। বিপরীতে উত্তর পাশে নারায়ণহাট বাজার, নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদ, নারায়ণহাট ভূমি অফিস, নারায়ণহাট ডিগ্রী কলেজ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণহাট মহিলা মাদ্রাসা, কেজি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও বাস স্টেশন রয়েছে। ফলে দক্ষিণ পাড়ের অসংখ্য মানুষকে রশি দ্বারা টানা নৌকা অথবা বোটে চড়ে উত্তর পাড়ে আসতে হচ্ছে।
জানা যায়, ১২টি গ্রামকে বিছিন্ন করে রেখেছে হালদা নদী ৷এদিকে, অস্থায়ীভাবে নির্মিত হালদার সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে যাওয়ার পর দুর্ভোগে পড়েছে হালদার দুপাড়ের মানুষ।
নারায়ণহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালদা নদী পার হতে হয়। নৌকার সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় আমাদের। জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় নৌকা ডুবির মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'
স্থানীয় সংবাদকর্মী কাউছার সিকদার বলেন, ‘দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণহাটে হালদা নদীর উপর সেতুর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ গণমানুষের এ দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গুরুত্ব পায়নি।’
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, ‘নারায়ণহাটের হাজারো মানুষের ভোগান্তি লাঘব করতে ও প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে সেখানে একটি বেইলী ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিশ্চিত না। তবে, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এখানে একটি সাঁকো নির্মাণ করার বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলোচনা করবো।