মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মামনুন ইমন। হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে তৌকীর আহমেদের ‘দারুচিনি দ্বীপ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে কাজ করে গেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও তাকে দেখা যায়। তবে প্রথমবারের মতো এবার যুক্ত হলেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। সমসাময়িক কাজ ও ওয়েব ফিল্ম নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
ওটিটিতে যুক্ত হওয়ার গল্পটা বলেন
সময়কে আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। ছোট পর্দার পরে বড় পর্দায় কাজ করেছি। সময়ের সঙ্গে বিনোদন দুনিয়ার নতুন মাধ্যম ওটিটি। ওয়েব প্ল্যাটফর্মে সবাই কাজ করছেন। দুনিয়াসুদ্ধ বড় শিল্পীরা এই মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন। আমারও মনে হলো এই মাধ্যমে কাজ করা যায়। কিন্তু আমি কাজটা করতে চাই এমন একজন নির্মাতার সঙ্গে যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিঞ্জ আমাকে নিয়ে প্ল্যান করছিল। পরে রায়হান রাফী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। গল্প শুনে ও রাফী নির্মাণ করছেন, জেনেই রাজি হয়ে গেলাম।
মায়া ওয়েব ফিল্মে আপনার চরিত্রটা কী?
চরিত্র এখনই রিভিল করতে চাইছি না। তবে শুধু এটুকু বলব, আমার চরিত্রটা এমন একটা চরিত্র, যা এই সময়ের অনেক পরিবারেই রয়েছে। হয়তো আমি কারও হাজবেন্ড হয়ে আসি, কারও সন্তান, কারও ভাই। আমার মতো একজন সন্তান থাকলে একটা পরিবারের কী অবস্থা হয়, তা নিশ্চয়ই এই ওয়েব ফিল্মে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে টিজারে আঁচ পেয়েছেন, শুরুতে দেখা যায়, সারিকা থানায় গিয়ে পুলিশকে বলছেন, তার স্বামী নিখোঁজ। পরে দেখা যায়, আমাকে কারা জানি জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু বলব, খুবই চমৎকার একটি ওয়েব ফিল্ম।
পোস্টার ও টিজারে যে ইমনকে দেখা গেল তা একেবারে নতুন, এই চরিত্র করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?
দেখেন রায়হান রাফী যখন বললেন, এই চরিত্র করতে হবে, ইমন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তখন মনে হয়েছিল চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু খুব একটা কঠিন হবে না। কিন্তু করতে গিয়ে বুঝলাম, অত সহজ না। ইমন থেকে বের হয়ে চরিত্র প্রবেশ করতে লেগে গেল ছয়-সাত দিন। আমি নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম, মনোযোগ দিলাম চরিত্রে প্রবেশ করতে, একটা সময় স্ক্রিন টেস্টে চূড়ান্ত হলো। এই সময়টা ছিল নানা প্রতিবন্ধকতাময়।
ওয়েব ফিল্ম ও চলচ্চিত্র এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কী পেলেন?
ওয়েব ফিল্ম করতে গিয়ে দেখলাম সেখানে খুবই চমৎকার গল্প, খুবই নিরীক্ষণধর্মী গল্প, খুবই মনোমুগ্ধকর ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো গল্প। আমার শুধু আফসোস হচ্ছে, যে মায়াতে কাজটা করলাম, যে পরিশ্রম করলাম এমন একটি কাজ যদি বড় পর্দায় মুক্তি পেত, তাহলে কতই না ভালো হতো। ওয়েব ফিল্ম বা ওয়েব সিরিজের গল্প দেখলেই মনে হচ্ছে বড় পর্দার গল্পগুলো চলে যাচ্ছে ওটিটিতে। মানতেই হবে বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে ওটিটি। তবে মায়া ওয়েব ফিল্মের প্রিমিয়ার বড় পর্দায় হবে, এটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
এখন আপনার হাতে আর কী কী কাজ রয়েছে?
সম্প্রতি অপারেশন জ্যাকপট সিনেমার কাজ শেষ হলো। আপনারা তো জানেন এই সিনেমা করতে গিয়ে সাগরের ধারে লাফ দিয়ে আহত হয়েছিলাম। পায়ে পাথর দিয়ে কেটে গিয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাকি সম্পন্ন করেছি। সিনেমাটির আরও কিছু কাজ বাকি আছে। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘কানামাছি’ চলচ্চিত্রটি ও নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়। এই হলো আমার কাজের ফিরিস্তি, তবে আরেকটি সিনেমায় আমি যুক্ত হচ্ছি। যেটার নাম ও বিস্তারিত কিছুই বলার পর্যায়ে নেই। আজকালের মধ্যে চুক্তি হলে সবাইকে জানাব।