জাতিসংঘ অধিবেশন

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক নেই মোদির সফরসূচিতে

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। অধিবেশনের সাইড লাইনে ড. ইউনূসের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানদের বৈঠক হওয়া কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তবে দিল্লির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো মতামত জানানো হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাধারণ পরিষদের সাইড লাইনে ইউনূস-মোদি বৈঠকের সূচি নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যমেও এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এজেন্ডায় এ ধরনের বৈঠকের কোনো সূচি নেই। মোদির তিন দিনের সফরে কোনো সময় ফাঁকা নেই। ব্যস্ত সূচিতে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে ২১ সেপ্টেম্বর ডেলাওয়ার উইলমিংটনে কোয়াড নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেবেন মোদি।

নিউ ইয়র্কে নরেন্দ্র মোদির সফরসূচি নিয়ে ওয়াকিবহাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যস্ত শিডিউল ছাড়াও, বিভিন্ন সময় ভারতের সমালোচনা করে ড. ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টার মন্তব্য নয়াদিল্লি ভালোভাবে নেয়নি বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে কিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেই সূচিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের সঙ্গে কোনো বৈঠক নেই। হিন্দুস্তান টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দুই নেতার বৈঠকে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ চাওয়ার আগ পর্যন্ত ভারত তাকে রাখতে পারে, তবে তাকে বাংলাদেশের বিষয়ে চুপ থাকতে হবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, একমাত্র শেখ হাসিনার শাসনেই সংখ্যালঘুরা নিরাপদ ও আওয়ামী লীগ বাদে বাকি সবাই ইসলামপন্থি এই প্রচলিত আখ্যান থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে। তিনি বর্তমানে নিরাপদ ও গোপন একটি স্থানে আছেন। তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ অনুরোধ করলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।