সেনাবাহিনীকে সর্বত্র ম্যাজিস্ট্রেসি দেওয়া সঠিক হয়নি : ফখরুল

দেশের সব স্থানে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, সেখানেই ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও অনুরোধ করেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আর্থিক সহযোগিতা করার সময় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করব, তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। কখনই এমন কোনো ব্যবস্থা নেবে না, যা সামগ্রিকভাবে তাদের জন্য বুমেরাং হবে, দেশের মানুষের জন্য বুমেরাং হবে।’ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের পক্ষ থেকে জেলায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত চারজন পরিবার এবং আহত ৪৩ জনের হাতে ১৫ লাখ টাকা তুলে দেন। পরে দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই সরকার রাজনৈতিক সরকার নয়। তাদের দায়িত্ব দেশে স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।’ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পেতে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে জোর দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফসল, তাদের আমাদের কাজ করতে দিতে হবে এবং সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তারা ব্যর্থ হলে সে ব্যর্থতা আমাদের সবার ব্যর্থতা হবে। তাই কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘কিছু ছাত্র শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করিয়েছে, এটা ছাত্রদের কাজ নয়। সামনে দুর্গাপূজা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে ধর্মীয় বড় উৎসব। এ উৎসবের সময় দুর্গাপূজার ম-পগুলো পাহারা দিতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের পাড়ায় পাড়ায় পূজাম-পগুলো পাহারা দিতে হবে। সনাতন ধর্মের মানুষজন যেন নির্বিঘেœ পূজা করতে পারে।’

মহাসচিব আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তার আগে অনেক ছাত্র-জনতাকে অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, গুম করেছে। অনেক ছাত্রকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন ভারতে পালিয়ে সেখান থেকে ষড়যন্ত্র করছে। ভারত সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন ভারতে বসে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশটাকে ফোকলা (দন্তহীন) করে দিয়েছে, দুর্নীতি করে দেশটা শেষ করে দিয়েছে। মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেম্বার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান, এমপি-মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত লুটপাট করেছে। এখন আমরা স্বাধীন হয়েছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্পদিনের জন্য সরকার হয়েছে। তারা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করবে। আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখবে। আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। এই খুনি শেখ হাসিনা সরকারকে কখনই এ দেশের জনগণ ক্ষমা করবে না। মানবতাহীন আচরণ করায় তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।’

পরে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব।