মোহাম্মদপুরে ২ যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন নাসির (৩০) ও মুন্না (২২)। তাদের মধ্যে মুন্না সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আর নাসিরের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

এলাকায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নিহত নাসিরের বন্ধু শাওন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় নাসির এসে আমাকে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে নামিয়ে দিতে বলে। মোটরসাইকেলে সাদেক খান কৃষি মার্কেট এলাকায় গেলে মারামারি দেখতে পাই। সেখান থেকে এক যুবক নাসিরের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। তখন নাসির মোটরসাইকেল থেকে নেমে কবরস্থানের দিকে দৌড় দেয়। কিছু যুবক পিছু নিয়ে কবরস্থানের ১ নম্বর গেটের পাশে নাসিরকে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়।’

নিহত নাসিরের বড় ভাই ইসলাম বিশ্বাস জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনির পশ্চিম বালিগ্রামে। নাসির হাজারীবাগ রায়েরবাজার বাড়ৈখালী ১২ নম্বর রোডে থাকতেন। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিন বোন-পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে নাসির চতুর্থ। সন্ধ্যার দিকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। পরে লোক মারফত জানতে পারেন কে বা কারা নাসিরকে কুপিয়েছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানায় জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় সাদেক খান আড়তের পাশে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মুন্না ও নাসির নামে দুজন নিহতের খবর পেয়েছি। এদের মধ্যে মুন্নার নামে মারামারিরসহ সাত-আটটি মামলা রয়েছে। নাসিরের বিষয়ে এখনো তথ্য পাইনি। তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কী কারণে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার তদন্ত চলছে।’