কালের বিবর্তনে সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও ব্যতিক্রম শুধু ফটিকছড়ির নারায়ণহাটের ১২ গ্রামের মানুষের ভাগ্য। হচ্ছে, হবে এমন আশার বাণীতে কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর। কিন্তু হালদা নদীতে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ২০ হাজার মানুষ। এ স্থানে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করত তারা। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে সেটিও ভেঙে পড়ায় ১২ গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় হালদা নদী পার হচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, হাপানিয়া নারায়ণহাট ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীর দক্ষিণ পাশে। বিপরীতে উত্তর পাশে নারায়ণহাট বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, ডিগ্রি কলেজ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও বাস স্ট্যান্ড রয়েছে। ফলে উভয় পাড়ের অসংখ্য মানুষকে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এদিকে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হালদার সাঁকোটির মধ্যের অংশ ভেঙে যাওয়ার পর ভেঙে পড়েছে হালদার দুপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন।
কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামাল বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালদা নদী পার হতে হয়। নৌকার সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় নৌকা ডুবির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সংবাদকর্মী কাউছার সিকদার বলেন, দেড় যুগ ধরে হালদা নদীতে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ এ দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গুরুত্ব পায়নি।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, সেখানে একটি বেইলি ব্রিজের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিশ্চিত না। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে একটি সাঁকো নির্মাণ করার বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করব।