পার্বত্য এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেয়নি সরকার। খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষের সময় অগ্নিসংযোগে অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকার কারণেই মূলত জরুরি ওই দুটি সেবা বন্ধ হয়ে যায় সাময়িক সময়ের জন্য। ধীরে ধীরে সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ টেলিযোযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ ছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও বলেছেন. ‘সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’
ফেনীর ছাগলনাইয়ার আন্ধারমানিক এলাকায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারিভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার বিষয়টি সত্য নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বা কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, এমন প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।
দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দীঘিনালায় সংঘর্ষ চলাকালে বিকেল ৪টার দিকে সামিট ও বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার কাটা পড়ায় রবির দেড়শটি টাওয়ারের মধ্যে ১৬টি টাওয়ার নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব টাওয়ার মেরামত করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার পর্যন্ত ১৪টি টাওয়ার সচল করতে পেরেছে রবি। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে টেলিটকের টাওয়ার রয়েছে ৭২টি। পিডিবি থেকে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ২৩টি ও অন্য কারণে আরও ছয়টিসহ মোট ২৯টি টেলিটকের টাওয়ার বর্তমানে অসচল রয়েছে।
শিগগির সবগুলো সাইট সচল করা হবে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা সচল রয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় স্বল্পসংখ্যক গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ওই এলাকায় আইএসপি অপারেটররা ক্ষতিগ্রস্ত নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপন ও জেনারেটরের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের কার্যক্রম চালু থাকায় সেখানে ধীরে ধীরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হচ্ছে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।