মৌসুমজুড়ে চড়া দেশের ইলিশের বাজার। ভারতে রপ্তানির ঘোষণায় ঊর্ধ্বমুখী ইলিশের দামের পালে হাওয়া লেগেছে। গত শনিবার ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি ঘোষণার পর দুই দিনের ব্যবধানে ইলিশের কেজিতে দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের অন্যতম বড় ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আহসান উল্লাহ। বড় স্টেশন মাছ বাজারে ঘুরে ঘুরে ইলিশ দেখছেন। কিন্তু দাম শোনার পর মলিন হচ্ছে হাসিমুখ।
চাঁদপুর জেলার মানুষ হয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে ইলিশ কিনতে না পেরে হতাশ আহসান উল্লাহ বলেন, গত জানুয়ারির দিকে দুটি ইলিশ মাছ কিনেছিলাম। ভেবেছি ইলিশের মৌসুমে কম দামে কিনতে পারব। কিন্তু তা আর হলো কই? এমনিতেই মাছের দাম বেশি, তার ওপর ভারতে রপ্তানি শুরু হওয়ায় ইলিশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ফেনী থেকে ইলিশ কিনতে আসা সোহেল হোসেন বলেন, অনেক আশা করে ইলিশ কিনতে চাঁদপুরে এসেছি। কিন্তু যেই দাম তাতে সাধ্যের মধ্যে নেই। একটা মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে দুই দিন আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হতো ১৭০০ টাকা দরে। তবে আজকের বাজারে ১০০-১৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-১৮৫০ টাকায়। ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৪০০-১৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় পদ্মা মেঘনা নদীর ইলিশের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ অনেক কম। অধিকাংশ মাছই আসছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। সেসব ইলিশ কেজিতে ১০০-২০০ টাকা কমে বিক্রি করা হয়।
ব্যবসায়ী নবির হোসেন বলেন, ইলিশের দাম বাড়তি থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অনেক মানুষ ইলিশ না কিনে ফিরে যায়।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবে বরাত বলেন, সংকটের কারণে দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল। এখন ভারতে রপ্তানি শুরু হওয়ায় কেজিতে ৫০-১০০ টাকা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ না বাড়লে চলতি বছর ইলিশের দাম কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। গত ২-৩ বছর আগেও এই বাজারে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪-৫ মণে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাছ আসে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। চাঁদপুরের নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে অনেক কম।