সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের জামিন নামঞ্জুর, সংঘর্ষ

সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের জামিন নামঞ্জুর করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিকে জাহিদ ফারুককে আদালতে আনার খবরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার রাত ৭টা ১৩ মিনিটে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনির মধ্যে দিয়ে তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মো. নুরুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও অ্যাডভোকেট আফজালুল করীম, লস্কর নুরুল হকসহ কয়েকজন আইনজীবী জাহিদ ফারুককে নির্দোষ দাবি করে তার জামিন আবেদন করেছিলেন।

এদিকে জাহিদ ফারুকের রিমান্ড না চাওয়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানান। এ সময় বিএনপির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সাইদুর রহমান জাহিদ ফারুকের রিমান্ড আবেদন করেননি। তার বিরুদ্ধে দুর্বল অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

অপরদিকে জাহিদ ফারুককে সোমবার দুপুরে বরিশাল আদালতে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারীরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। পাশাপাশি এ খবরে সেখানে জড়ো হতে থাকেন যুবদলের নেতাকর্মীরাও। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায় যুবদল। পরে পাল্টা হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও।

এ বিষয়ে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুব শ্রমিক লীগের সভাপতি জয়নাল জানান, তিনি অন্য কাজে আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার উপর হামলার খবর পেয়ে জয়নাল আবেদীনের দুই ছেলে অনু ও আশরাফুলের নেতৃত্বে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল করে আদালতপাড়ায় ঢুকে এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় যুবদল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে দুটি ট্রাকে বহু নারী-পুরুষ এসে জয়নালের ছেলেদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা আদালতপাড়ায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে ও হামলাকারীদের খুঁজতে থাকে।

জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মশিউল আলম পলাশ বলেন, গ্রেপ্তার জাহিদ ফারুক ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমার ওপর হামলা করেছিল। ফারুকের গ্রেপ্তারের খবরে আমরা খুশি হয়েছি। তাকে আদালতে আনা হবে এ খবর পেয়ে আমরা আদালতে এসেছি।