বরিশালের গৌরনদীতে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে কাসেমাবাদ এলাকার ‘মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা’ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল। তিনি জানান, জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবা প্রবাসে থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে কাসেমাবাদ গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন জান্নাতুলের মা সুবর্ণা। সোমবার বিকেলে তিনি জান্নাতুলকে মাদ্রাসায় রেখে আসেন।
শোকাাহত মা সুবর্ণা বলেন, বিকেলে হাসিমুখে মেয়েকে মাদ্রাসায় দিয়ে এলাম। রাতে খবর পাই আমার মেয়ে নাকি ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়েছে! ছোট মানুষটা এমন করবে বিশ্বাস হচ্ছে না, কী কারণে এমন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বরাতে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর আবাসিক একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় ভেতর থেকে বন্ধ দেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জান্নাতুলকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এবং জান্নাতুলকে নিচে নামায়। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মেয়েটি মাদ্রাসায় আসতে চাইছিল না। তাকে জোর করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।