৯ ব্যাংকের চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৮ হাজার কোটি

বেসরকারি খাতের নয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৮ হাজার কোটি টাকায় ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি টাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আরও দুটি ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে।

হুসনে আরা শিখা জানান, ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

এই মুখপাত্র জানান, উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গ্যারান্টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই ব্যাংকগুলো অন্যান্য সবল ব্যাংক থেকে পারলে সহায়তা নিতে পারবে। যেখানে গ্রান্টার থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে গ্রাহকদের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা কমে আসবে। এই সুবিধার জন্য ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। অবশ্য পদ্মা ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এখনো এ বিষয়ে কোনো আবেদন করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মুখপাত্র জানান, উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গ্যারান্টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই ব্যাংকগুলো অন্যান্য সবল ব্যাংক থেকে পারলে সহায়তা নিতে পারবে। যেখানে গ্রান্টার থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে গ্রাহকদের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা কমে আসবে। এই সুবিধার জন্য ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। অবশ্য পদ্মা ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এখনো এ বিষয়ে কোনো আবেদন করেনি।

হুসনে আরা শিখা বলেন, আমরা মনে করি যে, যারা সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়েছে তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। আসলে গ্রহকের আস্থা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গ্রাহকরা যখন এসব ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন তখন ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসায় ফিরে যেতে পারবে। তাদের দীর্ঘ দিনে প্রোটফোলিও আছে। এই ব্যাংকগুলোকে নিয়ে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে গভর্নর মহোদয় পরিকল্পনা করছেন। আমরা তাদের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ করব। প্রয়োজনে আমরা তাদের রিক্যাপিটালাইজেশন সুবিধা দেব। এই বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গতকাল পর্যন্ত যেসব ব্যাংকগুলোর চলতি হিসেবে ঘাটতি রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে শরিয়াহ ভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থানে থাকা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ২০২ কোটি, কমার্স ব্যাংকের ৩৮০ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ২৩৪ কোটি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ কোটি, গ্লোবাল ব্যাংকের ৩৯ কোটি টাকার চলতি হিসেবে ঘাটতি রয়েছে।