শেয়ার কারসাজিতে সাকিবকে জরিমানা

কয়েক বছর ধরেই আলোচিত জুয়াড়ি আবুল খায়ের হিরুর সঙ্গে মিলে বিভিন্ন শেয়ার কারসাজিতে জাতীয় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিগত কমিশনের সঙ্গে বিশেষ সখ্যের কারণে কারসাজিতে জড়িত থাকার পরও ছাড় পেয়ে আসছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এসইসির নতুন কমিশন প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির দায়ে সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। একই শেয়ারে কারসাজির জন্য আবুল খায়ের হিরুসহ আরও ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নিয়মিত সভায় শেয়ার কারসাজির জন্য জরিমানার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত বীমা খাতের প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে সর্বোচ্চ জরিমানা করা হয়েছে ইশাল কমিউনিকেশনকে, ৭৫ লাখ টাকা। একই শেয়ারের কারসাজির জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে, যিনি কিছুদিন আগেও এসইসির বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ছিলেন। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিব আল হাসানকে বিশেষ দূত থেকে বাদ দেয় এসইসির নতুন কমিশন। এরপর কারসাজির দায়ে তাকে জরিমানা করা হলো। গত কয়েক বছরের মধ্যে শেয়ার কারসাজির দায়ে সাকিব আল হাসানকে জরিমানার এটিই প্রথম ঘটনা।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে আবুল খায়ের হিরুকে। এ ছাড়া তার বাবা আবুল কালাম মাতবরকে ১০ লাখ, হিরুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মোনার্ক মার্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে লাভা ইলেকট্রোডস ও জাহিদ কামালকে ১ লাখ করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বীমা কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে সব মিলিয়ে ৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এসইসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটে। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে সাড়ে ৩৭ টাকা বা ৮৫ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪১ টাকা ১০ পয়সা। আর ১৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭৭ টাকা ১০ পয়সায়। কোম্পানিটির শেয়ারের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ছিল বড় ধরনের কারসাজি। যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরুসহ উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাকিব আল হাসান ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হয়ে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবুল খায়ের হিরু। ২০২০ সালে এসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবুল খায়ের হিরু কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই বছরই করোনার মধ্যে বীমা কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি শুরু করেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটান। আবুল খায়ের হিরু ছিলেন এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের সরাসরি ছাত্র। এ কারণে শিবলী রুবাইয়াত এসইসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি বিশেষ আনুকূল্য পেতেন। এমনকি অনেক শেয়ারের কারসাজির সঙ্গে হিরুর জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও এসব কারসাজির ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের উদ্যোগ নেননি। কখনো কখনো তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতির কৌশল অবলম্বন করেন। অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নামমাত্র জরিমানা করে রেহাই দেওয়া হয়েছে।