চিড়ার নামে পাচার হচ্ছিল ৪২ টন সুগন্ধি চাল

চিড়ার ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে পাচার হচ্ছিল সুগন্ধি চাল। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এছাক ব্রাদার্স কনটেইনার ডিপোতে অভিযান চালিয়ে চারটি কনটেইনার থেকে ৪২ টন সুগন্ধি চাল জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ঢাকার মতিঝিল এলাকার অভিজিত ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এসব চাল পাচার করছিল। 

সৌদি আরবের আল দাম্মাম সমুদ্র বন্দরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসব রপ্তানি পণ্য যাওয়ার কথা ছিল। পণ্যগুলো জাহাজীকরণের পূর্বে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে লোড করতে হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর মধ্যে এছাক ব্রাদার্স ডিপোতে এসব পণ্য চারটি কনটেইনারে ছিল। এ বিষয়ে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি চিড়ার ঘোষণা দিয়ে কার্টনের ভেতরে সুগন্ধি চাল প্রবেশ করিয়ে কনটেইনারজাত করেছিল। কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ গতকাল অভিযান চালিয়ে এছাক ব্রাদার্স থেকে এসব সুগন্ধি চাল আটক করে।’

কাস্টমসের গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, কনটেইনারের সামনের দিকে মুড়ি-চিড়ার প্যাকেট রাখা হলেও ভেতরে প্যাকেট ভর্তি সুগন্ধি চাল ছিল। চারটি কনটেইনারের মধ্যে ভাগ ভাগ করে ৪২ টন চাল রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে সরকার।

নিষিদ্ধ হলেও সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে এসব পণ্য কেন পাচার হয় জানতে চাইলে কাস্টমসের গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকেও এমন চিড়ার ঘোষণা দিয়ে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হচ্ছিল। আমরা সেগুলো আটক করেছি। সাধারণত যেসব দেশে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করে সেসব দেশে এসব চাল সরবরাহ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে এক পণ্যের ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্য আনার রেকর্ড অনেক বেশি। কিন্তু রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের চিত্র কম দেখা যায়।