ধীরে ধীরে মানুষের গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি। নিয়মকানুন সব লোপাট করে দুর্নীতি হয়েছে। মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে শতকোটি নয়, হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ। কিন্তু যাদের সহযোগিতায় মন্ত্রীরা এসব করেছেন, সেই এপিএসরা (সহকারী একান্ত সচিব) ঘাপটি মেরে আছেন। এত মন্ত্রী গ্রেপ্তার হলেও তাদের সঙ্গী এপিএসরা কিন্তু কোথাও নেই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাদের নাম পাওয়া যায় না। অথচ এপিএসরাই মন্ত্রী আর দুর্নীতির সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেন।
মূলত মন্ত্রীর কাছে যাওয়া সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে সেগুলোর সমাধান করা এপিএসদের কাজ। এ কাজ করতে গিয়েই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তারা। কখনো মন্ত্রীর জ্ঞাতসারে, কখনো অজ্ঞাতসারে সম্পদ আহরণ করে ফুলেফেঁপে ওঠেন। এপিএসরা গোটাকয়েক সুবিধাভোগী নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট দিয়েই পরিচালিত হয় খাল-বিল-নদীর ইজারা। ডিও লেটার, সুপারিশ-বাণিজ্য, নিয়োগ-বদলিসহ ক্ষমতাকেন্দ্রিক লুণ্ঠন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়া, টেন্ডার, টিআর, কাবিখা, সামাজিক নিরাপত্তার বয়স্ক ভাতাসহ সব কর্মসূচি এপিএসদের মাধ্যমেই হয়।
দলীয় ন্যায্য অধিকার অর্জনেও দলের দুর্দিনের কারিগরদের অসহায়ের মতো এসব এপিএসকে তোয়াজ করতে হয়। মন্ত্রীরা যখন এলাকায় যান তখন এপিএসের অনুমতি ছাড়া নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না কর্মীরা। মন্ত্রীরাও এপিএসদের এই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকে সুমিষ্ট প্রলেপ হিসেবেই দেখেন। ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খুব কমসংখ্যককেই এপিএস হতে দেখা যায়। এপিএস হন মূলত মন্ত্রীর নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠরা। এই সুযোগে বখাটে, নানা জায়গায় ধান্দা করে বেড়ানো লোকটি এপিএস হয়ে যান। ঢুকে যান সুরক্ষিত পাওয়ার হাউজ সচিবালয়ে। সরকারি বেতন-ভাতা, অফিসকক্ষ ছাড়াও তার নিয়ন্ত্রণে থাকে গাড়ি। এসব ব্যবহার করে রাতারাতি বনে যান বাড়ি-গাড়ির মালিক। তাদের আয়ের উৎস থাকে অজানা। বেশিরভাগ দুর্নীতি, অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকেন এপিএসরা। আর ক্ষমতার পটপরিবর্তনে জেলে যান মন্ত্রীরা। পালাবদল না ঘটলেও এপিএসদের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি তৃণমূলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তারা জনগণের মধ্যে বিতর্কিত হয়ে পড়েন। আর এপিএসরা থাকেন বহাল তবিয়তে।
এপিএস নিয়োগ হয় মন্ত্রীর ইচ্ছায়। তিনি সরকারি অফিসার হতে পারেন বা সরকারি চাকরির বাইরের কেউ হতে পারেন। নির্ধারিত লেখাপড়া জানা যে কাউকে মন্ত্রী এপিএস নিয়োগ দিতে পারেন। তার চাকরির স্থায়িত্বও মন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এ সুযোগ থাকার পরও খুব কম মন্ত্রীই সরকারি চাকরিজীবীদের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা তাদের পরিচিতজনদের মধ্যেই এ নিয়োগ দেন।
গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। ২০০৯ থেকে ২০১৩ এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় সামলেছেন। এ সময় তার এপিএস হিসেবে যারা কাজ করেছিলেন, তারা সবাই ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অনেকে ক্যাডার কর্মকর্তাও ছিলেন। সেই সময় মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছিলেন, কেন তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বছর শেষে তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তারা সহজে কোনো অনিয়মে জড়ান না। কারণ সরকারি চাকরিজীবীদের আচরণবিধি মানতে হয়। তারা কোনো অনিয়ম করলে তাদের পেনশন গ্র্যাচুয়িটি আটকে যাবে। আর দলীয় নেতাকর্মীদের এপিএস করলে তাদের সম্পদ বানানোর দিকে মন থাকবেই।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যতদিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে থাকেন, এপিএসদের চাকরির মেয়াদ ততদিন। ফলে তারা শুরু থেকে আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। এপিএসরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দর কষাকষিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন। ফলে তারা দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পান। এপিএস নিয়োগের এ প্রথা বাতিল করতে হবে।’
মন্ত্রীদের চেরাগে শতকোটির এপিএসরা : আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদে সম্পদে ফুলেফেঁপে ওঠেন দলটির বহু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তাদের এপিএসরাও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিনেছেন দামি গাড়ি, গড়েছেন বাড়ি। গত ১৫ বছরে মন্ত্রী-এমপির নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার দাপট, টেন্ডার, কমিশন ও তদবির-বাণিজ্য এবং চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির কারবার করে বিত্তশালী হয়েছেন এপিএসরা। ২০০৮ সালের আগে এসব এপিএস ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ থাকলেও, ক্ষমতার পরশ পাথরের ছোঁয়ায় সেই চিত্র বদলেছে দ্রুতই।
এ বদলে যাওয়াদের একজন সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের এপিএস শামীম আহমেদ। এপিএস পদে নিয়োগের আগে টিউশনি করে জীবন চালাতেন। অথচ এখন তিনি প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালিক। তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়েছে, রাজধানীর বুকে রয়েছে বাড়ি, চড়েন দামি গাড়িতে। তার মালিকানায় রয়েছে অ্যাগ্রো পার্ক ও আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান। নিজ এলাকা ময়মনসিংহের ত্রিশালের রানীগঞ্জ-পোড়াবাড়ী এলাকায় একাধিক গরু ও মাছের খামার গড়ে তুলেছেন। রানীগঞ্জে শতবিঘার ওপর করেছেন মাছের খামার। পোড়াবাড়ী এলাকায় প্রায় শতবিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন বেলা নামে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট। ত্রিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নে শামীম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১২০ বিঘা জমি রয়েছে। সাভারের থানা রোড এলাকার একটি ভবনে তার রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। রাজধানীর গুলশানে নাভানা টাওয়ারে রয়েছে অফিস।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যেকোনো প্রকল্প পেতে ধরনা দিতে হতো শামীমের কাছে। কাজ পাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট হারে কমিশন নিতেন তিনি। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে প্রকল্প পরিচালকদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন। এমনকি জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ত্রাণ বরাদ্দে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।
সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস আ ন ম আহমাদুল বাশার। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এপিএস হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বাশার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নানাজন নানা তথ্য দিলেও কারও মতেই তা ৫০০ কোটি টাকার নিচে নয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয়ে একক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বাশার। তার নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারকে কাজ দিতে বাধ্য করতেন। বাশারের বাড়ি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের সুলতানপুরে। তার কৃষক বাবা তাইজুল ঋণের জন্য জমি বন্ধক রেখেছিলেন। অথচ এই বাশারের এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি ফ্ল্যাট ও ৯টি প্লট রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। এর বাইরে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাশার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৫০০ বিঘা জমি থাকার তথ্য দিয়েছেন আরেকজন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস হাফিজুর রহমান লিকুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার নিজ জেলা গোপালগঞ্জে ৫০০ বিঘার বেশি জমি রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল ইজারা নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে পদ পাইয়ে দিতে তদবির-বাণিজ্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এসবের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিকানা অর্জন করেন। ঢাকার বসিলায় দেড় বিঘা জমিতে নির্মাণ করেছেন ১০-তলা ভবন। গোপালগঞ্জে তার ভাইবোন ও শ্যালকসহ আত্মীয়স্বজনের নামে বাড়ি, গাড়ি, মাছের খামার ও ঘের নির্মাণ করেছেন। তার পরিবারের নামে রয়েছে ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী ওয়েলকাম পরিবহনের মালিকানা।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের এপিএস ছিলেন তার ভাই ছোট মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়ে শামীমা সুলতানা হৃদয়কে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, হৃদয়ের স্বামী মেহেরাব পাটোয়ারীকে সহকারী পরিচালক এবং বোনের ছেলে এএম ইয়াসিনকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সহায়তায় গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিলের সহকারী পরিচালক পদে চাকরি দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তাদের মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। আর তারা পুরো মন্ত্রণালয় নিজেদের কবজায় নেন। পরে তারা সিন্ডিকেটে করে কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেন, যাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা হয়েছে।
নবম সংসদ নির্বাচনের আগপর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না হাসনাত হোসেনের। তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। অথচ ১৫ বছর পর এখন তার সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের এপিএস। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী মান্নান দেশ সামলাতেন আর হাসনাত এলাকা। সিনিয়র নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বনে যান, ছোট ভাই নূর হুসেনকে বানান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। আরেক ভাইকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। সুনামগঞ্জ জেলার একমাত্র মন্ত্রী ছিলেন এমএ মান্নান। ফলে জেলার সব উপজেলা ও স্থানীয় সরকার প্রশাসনে দাপট ছিল হাসনাতের। নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারে কমিশন সবকিছুই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।
শূন্য থেকে শুরু করে ক্ষমতার দাপটে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের এপিএস মিজানুর রহমান। মন্ত্রীর আশকারাতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মিজান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অসহায় ও দুস্থদের জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতো, সেখানেও ভাগ বসাতেন মিজান। তিনি মাদ্রাসায় নিয়োগের জন্য ৫-৭ লাখ টাকা ও স্কুল-কলেজে নিয়োগের জন্য ১০-১৫ লাখ টাকা করে নিতেন। চাকরি ও বদলি-বাণিজ্য ছিল তার অন্যতম আয়ের উৎস।
মিজান লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পাশে অবৈধভাবে তৈরি করেছেন বালুমহাল। মালিক হয়েছেন কয়েকশ কোটি টাকার। তার ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাটের আদিতমারীর মহিষখোঁচার কচুমুড়া এলাকায় ২০ বিঘা, বারঘরিয়া বালুঘাটে ১৫ বিঘা, গোবধনচরে ৫০ বিঘা জমিসহ আরও শতাধিক একর জমি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এক যুগের বেশি সময় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমদাদুল হক। ওই সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। রাজধানীতে নামে-বেনামে গড়েছেন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। চলতি বছর ২০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে। কমিশনের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন।
এমদাদুল হকের রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী জামে মসজিদের কাছে বিশাল ভবন, কে-ব্লকে বাড়ি, বাসাবোতে একটি ১০-তলা ভবনে আটটি ফ্ল্যাট এবং একই এলাকার ছয়তলা আরেকটি ভবনে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। ৩৬ নম্বর উত্তর বাসাবোর বেস্ট লিভিং লিমিটেডে অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট, রিমঝিম আবাসনে ১৫ শতাংশ শেয়ার এবং রূপগঞ্জের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প থেকে নামে-বেনামে প্লট গ্রহণসহ আরও অনেক সম্পদ রয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের এপিএস ছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের পরিচালক (প্রশাসন) পদে হাতিয়ে নেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যন্ত্রপাতি ও এমএসআর সামগ্রী সরবরাহে সহায়তার মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।