ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নানা দাবিতে টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর মালিকপক্ষ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে কারখানাগুলোতে। একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে যেসব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, সেগুলোতে ঘাটতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত কাজ করছেন শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় আশুলিয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবারও খোলা ছিল ১৫০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা।
এদিকে নাটোরে প্রাণ অ্যাগ্রো কোম্পানির শ্রমিকরা ১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করায় কর্র্তৃপক্ষ কারখানা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল সকাল থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ থাকবে। উৎপাদনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আশুলিয়ার কারখানাগুলো চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানি কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
সংগঠনটির সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে শ্রমিকঘন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানায় কাজ করেন ৯ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক। স্বাভাবিক কারণেই এ শিল্পাঞ্চলের দিকে সবার দৃষ্টি থাকে। দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ায় এখন সবাই একযোগে দেশের উন্নয়নে কাজ করবেন।’
বিভিন্ন কারখানার ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, যথাসময়ে পণ্য রপ্তানির চাপ বাড়ছে। তাই উৎপাদন বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই ছুটির দিনেও কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছে। শ্রমিক-মালিক উভয়ের সম্মতিতেই গতকাল চালু ছিল দেড়শর বেশি তৈরি পোশাক কারখানা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘কারখানা মালিকরা হাজিরা বোনাস বাড়ানোসহ শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি পূরণের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার পর উৎপাদনে ফিরেছে সিংহভাগ কারখানা। তবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, পর্যালোচনায় থাকা ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ১৫ ভাগ ইনক্রিমেন্টের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুটি কারখানায় অসন্তোষ ছিল। চালু কারখানাগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে শিল্প-পুলিশ। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ঘিরে রয়েছে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে পুলিশ, আর্মড পুলিশ, শিল্প-পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের তৎপরতা। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।’
নাটোরে বন্ধ প্রাণের কারখানা : নাটোরের একডালা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রাণ অ্যাগ্রো কারখানায় শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এর আগেও শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ কর্র্তৃপক্ষের কাছে ১৩ দফা দাবি জানান। কর্র্তৃপক্ষ কয়েকটি দাবি মেনে নিলেও শ্রমিকরা সব দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকরা কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হযরত আলীকে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মাছুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন কারখানায় এসে শ্রমিক ও কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সমস্যা নিরসনে আলোচনা করেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জেনারেল ম্যানেজার হযরত আলীকে রাতে কারখানা থেকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মাছুদুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়েই আমিসহ পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীর টিম কারখানায় যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্র্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’