ইউপি চেয়ারম্যানরা পলাতক ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন মামলায় পড়ে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সব চেয়ারম্যানই পলাতক রয়েছেন।

বাজিতপুরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্টের পর থেকে একের পর এক মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সাবেক এমপি আফজাল হোসেনসহ ১১ ইউপি চেয়ারম্যানকেও আসামি করা হয়েছে। ফলে সব চেয়ারম্যানই পলাতক রয়েছেন। যার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এসব ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মাসুম, বিল্লাল, অনিতা রায়, আকবর মিয়াসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় আমরা সময় মতো কোনো কাজই করতে পারছি না। ইউনিয়নের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে আসা অনেকেই পরিষদ থেকে ফিরে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাজিতপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারশিদ বিন এনাম বলেন, সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক। তিনটি ইউনিয়নের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজগুলো সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকি আটটি ইউনিয়নে আপাতত প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ার্ড মেম্বাররা দায়িত্ব পালন করছেন। যেহেতু ইউপি চেয়ারম্যানরা অফিস করছেন না, ফলে পরিষদের কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে এসব ইউনিয়ন পরিদর্শনে যেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভাতিজা মিঠামইন সদর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দের ছোটভাই কটিয়াদি উপজেলার সহস্রাম ধুলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম আকন্দ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম মাসুদ, অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কাছেদ মিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় আরও বেশ কিছু চেয়ারম্যানই পৃথক মামলায় আসামি হয়েছেন। এর আগে দানাপাটুলি ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া বাকি ১০ ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক।