ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলার স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মেডিকেল এবং নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর আগে শনিবার হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে নাসরাল্লার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও বলা হয়নি যে তিনি ঠিক কিভাবে নিহত হয়েছেন এবং কখন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নাসরাল্লাহর শরীরে সরাসরি কোনো ক্ষত নেই এবং মনে হচ্ছে বিস্ফোরণের কারণে ব্লান্ট ট্রমায় তার মৃত্যু হয়েছে। ব্লান্ট ট্রমা বলতে শরীরের উপরিভাগের কোনো ক্ষতি না করে শক্তিশালী প্রভাবের কারণে অন্তর্ঘাত আঘাতকে বোঝায়।
৩২ বছর ধরে ইরান সমর্থিত লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান নাসরাল্লাহ। তার মৃত্যুতে বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে হিজবুল্লাহ এবং লেবানন। এছাড়া একের পর এক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডে বেশ ক্ষুব্ধ ইরানও।
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসারাল্লাহর মৃত্যু ‘প্রতিশোধহীন’ যাবে না। এছাড়া নাসরাল্লাহর মৃত্যুতে ইরানে পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন তিনি। একই সাথে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভা ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে নাসারুল্লাহর মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিক মোড় ঘোরানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা মূলত লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।