নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া। তিনি চিটাগাং রোড ফজর আলী গার্ডেন সিটি মার্কেটের মালিক। তার মার্কেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সেই চাঁন মিয়া এখন চারটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার স্বজনদের দাবি, মার্কেটের ঘটনায় মামলা করায় প্রতিহিংসায় তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
চাঁন মিয়া (৫৬) সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তার ছেলে মো. আলাল।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ২০ জুলাই রাতে ফজর আলী গার্ডেন সিটি মার্কেটে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চাঁন মিয়া বাদী হয়ে বিএনপি সমর্থক ১৫ জনকে এজাহারনামীয় ও শতাধিক জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ২৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশের প্রেক্ষাপট বদলে গেলে দুর্দশায় পড়েন চাঁন মিয়া। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০-২১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মিনারুল ইসলাম (২৯), হোসাইন মিয়া (১০) ও তুহিন (৩৬) হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে চাঁন মিয়াকে। এ ছাড়া ডেমরা থানায় করা হযরত বিল্লাল (২০) হত্যা মামলায়ও আসামি করা হয়েছে তাকে। ফলে চারটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
চাঁন মিয়ার ছেলে আলাল বলেন, ‘আমার বাবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। মামলার এজাহারে তাকে বঙ্গবন্ধু কর্মজীবী লীগ নেতা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এটা আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গ কিংবা সহযোগী সংগঠন নয়। আমাদের মার্কেটে লুটপাটের ঘটনায় মামলা করায় আসামি পক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।’
জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আল মামুন বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে অনেকগুলো হত্যা মামলা হয়েছে। কোন মামলায় কাকে আসামি করা হয়েছে তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।