রোদ উঠল বৃষ্টি থামল তবু খেলা হলো না

রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল না কানপুরে, যদিও আগের রাতে থামেনি আশ্বিনের এই অকালবৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কেটে গেছে, বেড়েছে আলো আর সঙ্গে তাপমাত্রাও। কিন্তু প্রকৃতির এই পরিবর্তনও কানপুর টেস্টের খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরাতে পারেনি। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে তৃতীয় দিনের খেলাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কানপুর টেস্টে আর মাত্র ২ দিনের খেলা বাকি থাকল, প্রথম দিনে রোদবৃষ্টির লুকোচুরির ভেতর ৩৫ ওভার খেলা হয়েছিল।

মুমিনুল হকের জন্মদিন ছিল রবিবার। খেলা মাঠে গড়ালে ৪০ রানে অপরাজিত থাকা মুমিনুল হকের সুযোগ ছিল হাফসেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরিতে দিনটা স্মরণীয় করে রাখার। কিন্তু সেই সুযোগ আর এলো না। তিন দফা মাঠ পরিদর্শন শেষে ম্যাচ অফিশিয়ালরা জানিয়ে দিয়েছেন রবিবারও খেলা না হওয়ার কথা। প্রথম দফায় সকাল ১০টায়, এরপর দুপুর ১২টায়, সবশেষ দুপুর ২টায় মাঠ পরিদর্শন শেষে অফিশিয়ালরা জানিয়ে দেন ভেজা আউটফিল্ডের কারণে খেলা চালানো সম্ভব নয়। এতে করে ছুটির দিনে মাঠে আসা অনেক দর্শক হতাশ হয়ে ফিরে যান।

বছর চারেক পর কানপুরে টেস্ট ম্যাচ আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন বিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা। কানপুরে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট প্রশাসকের রবিবার খেলা দেখতে আসারও কথা ছিল। ম্যাচ শুরুর আগের দিন কানপুরের ভেন্যু ডিরেক্টর সঞ্জয় কাপুর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন বৃষ্টি হলেও মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলার সক্ষমতার কথা। কিন্তু রবিবার সারা দিন বৃষ্টি না হওয়ার পরও যখন খেলা হলো না, তখন সঞ্জয় বলছেন অতিবৃষ্টির কথা, ‘গত কয়েক দিনে এই অঞ্চলে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে যা বছরের এই সময়ে সাধারণত হয় না। এরফলে মাঠের কিছু জায়গা ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। আমাদের মাঠকর্মীরা কঠিন পরিশ্রম করছে।’

কানপুরেই শুধু নয়, সম্প্রতি নয়ডায় আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচেও বৃষ্টির পর মাঠ না শুকানোয় খেলা হয়নি। উত্তর প্রদেশেরই নয়ডায়, আফগানিস্তানকে হোম ম্যাচ আয়োজনের  সুযোগ করে দিয়েছিল বিসিসিআই। যদিও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পছন্দ ছিল লাখনৌ অথবা দেরাদুন। কিন্তু দুই জায়গাতেই স্থানীয় টি-টোয়েন্টি লিগ চলমান থাকায় আফগানিস্তানকে নয়ডাতেই ম্যাচটি খেলতে হয়, যে মাঠের সুযোগ-সুবিধা তাদের ঘরের মাঠের চেয়েও খারাপ, এমন অভিযোগ ছিল আফগান বোর্ডের কর্মকর্তাদের। সে ম্যাচে মাঠকর্মীদের দেখা গেছে ফ্যান চালিয়ে মাঠ শুকাতে। কানপুরে অবশ্য এমন হাস্যকর কিছু না হলেও দুটো সুপার সপার চালিয়ে অনেকটা সময় চেষ্টা করেও মাঠ শুকিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সঞ্জয় কাপুর আশা করছেন, আজ খেলা চালানো সম্ভব হবে, ‘ম্যাচ অফিশিয়ালরা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি ঠিক কোন কোন জায়গাগুলো নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট। কিউরেটর জানিয়েছেন, আর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে শেষ দুই দিনে খেলা হতে পারে।’

সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য বিদায়ী টেস্ট ম্যাচটায় বৃষ্টি তাকে মাঠে নামতেই দিচ্ছে না। অন্যদিকে ভারত চাচ্ছে যে কোনো ভাবেই খেলাটা শুরু করাতে কারণ এই ম্যাচ জয়ের সঙ্গে তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ জড়িত। ওদিকে শ্রীলঙ্কা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়াতে উঠে এসেছে তিনে, ভারত আছে একে আর অস্ট্রেলিয়া দুইয়ে। ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দেশে খেলা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে। সবমিলিয়ে কানপুর টেস্টসহ তাদের টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ ম্যাচ বাকি, ফাইনালে যেতে হলে অন্তত ৪টা ম্যাচে জিততেই হবে।