বীরাসিংহে পেরেছেন মনসুর পারবেন!

ড. পি নন্দলাল বীরাসিংহে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তবে দেশটির প্রায় ধসে পড়া অর্থনীতিকে শক্ত অবস্থানে এনে তিনি এখন বিশ্বে পরিচিত অর্থনীতির ম্যাজিশিয়ান হিসেবে। ২০২২ সালে ধসে পড়া লঙ্কান অর্থনীতিকে খাদ থেকে টেনে শীর্ষে তুলে আনা জাদুকর তিনি। তিনিই বর্তমান বিশে^ সফলতার উদাহরণ হয়ে আছেন, চমকে দিয়েছেন বিশ্বকে।

করোনা মহামারীর পর কিছুটা সামলে নিলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতি ধসে পড়েছিল, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এটি প্রকট হয়। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ছিল তালিকার শীর্ষে। এরপর বাকি দেশগুলো নিজেদের সামলে নিলেও বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনীতিতে নেতৃত্বের অভাবে বর্তমানে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে।

সাধারণত দুর্যোগ-পরবর্তী সংকটময় অর্থনীতিতে যে কয়জন ব্যক্তির দিকে সবার চোখ থাকে, এর শীর্ষে থাকেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সংকটের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া অর্থনীতির দায়িত্ব নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরের দিকেও এখন চোখ সবার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ গভর্নরকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ স্বভাবতই উঁচুতে। তাকেই অনেকে ভাবছেন শ্রীলঙ্কার সফল গভর্নর পি নন্দলাল বীরাসিংহের ভূমিকায়। কেউ কেউ আশা করছেন, তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ড. মনমোহন সিংয়ের মতো ভূমিকা রাখবেন। কিংবা হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম দিকের গভর্নর নুরুল আমিনের মতো। অথবা আহসান এইচ মনসুর স্বনামেই অন্যন্য উদাহরণ হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।

বিশ্ব অর্থনীতিতে খারাপ গভর্নরের উদাহরণও আছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আর্থার বার্নস। ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিক্সনই বার্নসকে বাধ্য করেছিলেন সুদের হার কমাতে। নিক্সন জনতুষ্ট নীতি চেয়েছিলেন, আর্থার বার্নস সেটাই করে দিয়েছিলেন। ফলাফল, অর্থনীতিতে কালো তালিকায় তিনি। একই অবস্থা বাংলাদেশের সদ্য সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারেরও। সরকারের ইচ্ছায় ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে গিয়ে পুরো অর্থনীতিকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন তিনি। সেই বিপদ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ এখন আহসান এইচ মনসুরের।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধস থেকে ম্যাজিকের মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসের স্বৈরাচারী শাসনের ইতি ঘটে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধসের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে। তার বিদায়কালে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশে। কিন্তু দেড় বছরের ব্যবধানে সেই মূল্যস্ফীতি নেমে আসে ১০ শতাংশের নিচে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারাকে ইতিবাচক করার ক্ষেত্রে আছে তার ভূমিকা। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির মোড় ঘোরানো সেই জাদুকর ছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি নন্দলাল বীরাসিংহে। তার মতোই সংকটময় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাল ধরেছেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও তার আগে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তারও আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তা ছিলেন। অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধই। আহসান এইচ মনসুর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নন্দলাল বীরাসিংহের মতোই ভূমিকা রাখতে পারবেন কি না, সে কৌতূহল এখন সবার মনে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির নাজুক অর্থনীতিতে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা স্থবির হয়ে পড়ে। দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্যেও মিলছিল না খাদ্য ও জ¦ালানি। রিজার্ভ সংকটে দেউলিয়া শ্রীলঙ্কা সবার আলোচনার টেবিলে। এমন টালমাটাল অর্থনীতিতে ২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটির সেন্ট্রাল ব্যাংকের (সিবিএসএলে) দায়িত্ব নেন পি নন্দলাল বীরাসিংহে। ড. মনসুর যখন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তখনো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রায় একই।

বীরাসিংহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর হিসেবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে কয়েক বছর আগেই শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিলেন। তার সতর্কবার্তাগুলো আমলেই নেয়নি রাজাপাকসে সরকার। নিরুপায় হয়ে আগাম অবসর নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান নন্দলাল। তবে শ্রীলঙ্কা চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে পড়ার পর দেশটিকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের জন্য আবারও তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের।

যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন গভর্নর নন্দলাল বীরাসিংহে : শ্রীলঙ্কার আর্থিক ও মুদ্রাবাজার খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হওয়ার সুযোগ পান নন্দলাল বীরাসিংহে। যদিও মূল্যস্ফীতি ততদিনে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসীভাবেই সুদহার বাড়াতে থাকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগ্রাসী সুদহার নীতির সুফলও মিলতে থাকে। নিয়ন্ত্রণে আসে ঋণের প্রবাহ। আবার এ বর্ধিত সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয় বাজারভিত্তিক পদ্ধতিকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রা (বিশেষ করে ডলার) ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে করা হয়। একপর্যায়ে ডলারসহ অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে লঙ্কান রুপির বিনিময় হার বাড়তে থাকে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোয় নগদ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। ঋণ বাড়ানোর পরিবর্তে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নির্দিষ্ট হারে তারল্য আমানত হিসেবে জমা রাখতে বলা হয়। সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও তা ছাড় করায় নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যবহার হতে থাকে বিনিময়যোগ্য অন্যান্য সম্পদ। এতে বাজারে বা ব্যাংকগুলোয় তারল্য প্রবাহ না বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়তে থাকে।

২০২২ সালের অক্টোবরে প্রথম দেশটির খাদ্য ও জ্বালানি খাতে পণ্যের প্রাপ্যতা বেড়ে যায়। এ ছাড়া দেশটিতে সরকারি বন্ডের সুদহারও বাড়িয়ে তোলেন বীরাসিংহে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালেরও মূল্যস্ফীতিকে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও ব্যক্ত করেন তিনি, যা গত মাসে অর্জন করতে সম্ভব হয়েছে।

সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তথ্য বলছে, চলতি বছর আগস্ট মাসে গৃহায়ন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির দাম জুলাই মাসের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্ব গ্রহণ : হাসিনা সরকারের পতনের পর পালিয়ে যান তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। পলাতক থেকেই ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ১৩ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিযুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এমন একসময় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যখন বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সাড়ে ১১ শতাংশের বেশি। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ শতাংশের ওপর।

অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান : দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কড়া হুঁশিয়ারি দেন অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। অর্থ পাচারকারীদের টাকার বালিশে ঘুমাতে না দেওয়ার কঠোর বার্তাও দেন তিনি। সম্প্রতি এক বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহসান এইচ মনসুর বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১৩ বিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে কি না, তদন্ত করছে নতুন প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার ‘বেশ সহায়তা’ করছে।

টাস্কফোর্স গঠন : দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ব্যাংক খাত সংস্কারের গুরুত্বারোপ করেন আহসান এইচ মনসুর। ব্যাংক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আর্থিক খাত বিষয়ে অভিজ্ঞ ছয়জনকে সদস্য করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সমন্বয়ক হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। ব্যাংক খাত সংস্কারে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে এই টাস্কফোর্স। এই টাস্কফোর্স প্রধানত আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে ব্যাংক খাতের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, মন্দ সম্পদ, প্রধান ঝুঁকিগুলো নিরূপণ করবে। এ ছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচক পর্যালোচনা, ঋণের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নিরূপণ, তারল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নিট মূলধন নির্ণয়, সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মন্দ সম্পদকে পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পলিসি রেট বা নীতি সুদহার। সাধারণত চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদহার ও ডলারের দর বাড়ানো হয়। মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে আহসান এইচ মনসুর এক মাসের ব্যবধানে দুবার বাড়িয়েছেন এই নীতি সুদহার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৫ আগস্ট প্রথম নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর তা আরেক দফা ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এ নীতি সুদহার আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

ডলার বাজারে শৃঙ্খলা : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দর ও খোলাবাজারের দরের মধ্যে ব্যাপক ফারাক তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত দর ও খোলাবাজারের দরের পার্থক্য দাঁড়ায় ৭-৮ টাকায়। কিন্তু গভর্নরের কিছু সিদ্ধান্তের পর এ পার্থক্য দাঁড়ায় ১-২ টাকায়।

আশার আলো দেখছেন অর্থনীতিবিদরা : বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব একটা পরিস্থিতি থাকে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ দুটি দেশের পরিস্থিতির কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় যেভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে, আমার জানামতে, বাংলাদেশেও তেমন বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ফলো করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে পলিসি রেট আরও বাড়ানো হচ্ছে। হয়তো আরও বাড়বে। এর অর্থ হচ্ছে মুদ্রনীতিটা যতটা পারা যায় সংকোচনমূলক করে অর্থনৈতিক চাহিদা সংকুচিত করে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।

এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিনিময় হার অনেকটা স্থিতিশীল করেছে। ব্যাংক ব্যবস্থাটাও সংস্কার করার চেষ্টা করছে। যাতে সবকিছু মিলিয়ে আর্থিক খাত একটা সুশৃঙ্খল হতে পারে এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেসব নীতি নেওয়া হচ্ছে এর ফল পেতে কিছু সময় লাগবে।’

মুদ্রানীতি একমাত্র ওষুধ নয় বলে মনে করেন মুস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ‘শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমাদের দেশের মূল্যস্ফীতিতে আরও কিছু ফ্যাক্টর আছে। যেমন রাজস্বনীতি যদি সংকোচনমূলক না হয়, প্রচুর খরচ করা হয় তবে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। রাজস্বনীতিকেও মুদ্রানীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে হবে।’

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনা। বাজার ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক না হওয়ার কারণে অনেকেই সিন্ডিকেট করে মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাকেও ইফেকটিভ করতে হবে।

বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার জানামতে, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে পলিসি রেট বাড়িয়েছেন। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। তবে আমাদের দেশের মূল্যস্ফীতি শুধু মনিটরি পলিসির বিষয় নয়, আরও বেশ কিছু বিষয় আছে। এখানে বিনিয়োগ বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয় আছে। আমদানি সময়মতো হচ্ছে কি না, এসবও দেখার বিষয় আছে। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটা বড় ভূমিকা আছে। সব একবারে হবে না। একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা তাকে দিতে হবে।’