অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থছাড় কম, প্রভাব বাস্তবায়নে

বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অধিকাংশ প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে খুব একটা অবদান না রাখলেও ঋণের চাপ বাড়াতে সহায়তা করেছে। এমন সব অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থছাড় কমিয়ে দিয়েছে সরকার। যার প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্থছাড় হয়েছে। যার প্রভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনাও করছে অন্তর্বর্তী সরকার। যার ফলে এডিপির আকারও এক লাখ কোটি টাকা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) জুলাই-আগস্টের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর চেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য সংস্থাটির ওয়েবসাইটে নেই। সেই আলোকে গত এক যুগে এত কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি। এ দুই মাসে ৭ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা অর্থছাড় হয়েছে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন। গত অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা ছাড় হয়েছিল এই সময়ে। শুধু গত আগস্ট মাসে অর্থছাড় হয়েছে ৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরের আগস্ট মাসে ছাড় হয়েছিল ৭ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা কাটছাঁট হতে পারে। তাই বেশি প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রাধিকার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ধরা হয় ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা।

এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকল্পটি বেশি প্রয়োজনীয়, কোনটির প্রয়োজনীয়তা কম তা যাচাই-বাছাই চলছে। প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন বর্তমানে শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে এডিপি বড় ধরনের কাটছাঁট করলে তেমন কোনো অর্থের অপচয় হবে না। চলতি অর্থবছরে এডিপির আওতায় ১ হাজার ৩২৬টি প্রকল্প আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ২০২৩ সালে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যয় দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রদান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পগুলো ফের বিবেচনা করা উচিত। কারণ সরকার আর্থিক সংকটে আছে, রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি রয়েছে। সরকারকে ব্যয় কমাতে হবে। ব্যয় কমানোর বড় জায়গা এডিপি। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ দিতে হবে। কারণ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনেক এগিয়েছে। যেসব মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো সেগুলো শেষ করা ভালো হবে। তবে যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি বা প্রাথমিক ধাপে আছে সেগুলো বাদ দেওয়া ভালো হবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা অর্থ খরচ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর পর সর্বোচ্চ খরচ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। সড়ক মহাসড়ক বিভাগ খরচ করেছে ৫৭৮ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খরচ করছে ৪২৬ কোটি টাকা। ৮৮৫ কোটি টাকা খরচ করেছে জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়।