বিক্ষোভ ঠেকাতে কারফিউ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ডাকা বিক্ষোভ ঠেকাতে কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য দেশ জুড়ে নতুন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পিটিআই। গত বুধবার মিয়ানওয়ালি, ফয়সালাবাদ এবং বাহাওয়ালপুরে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি রুখতে মঙ্গলবারই কারফিউ জারি করেছিল পাঞ্জাবের রাজ্য সরকার। এবার ইসলামাবাদের ডি-চকে বিক্ষোভের আগেই কারফিউ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। সেই সঙ্গে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি বড় অংশকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পিটিআই নেতা ইমরানের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেয় ইমরান খানের দল। পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সচিব শেখ ওয়াক্কাস আকরামের দাবি, সরকার ভীত হয়ে তাদের কার্যক্রম বানচালের উদ্দেশ্যে কারফিউ জারি করছে। পিটিআই যাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করতে না পারে, এজন্য অন্য শহরগুলোতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোন অবরোধ করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বিভিন্ন রাস্তায় কনটেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ফাইজাবাদ এক্সপ্রেস হাইওয়ে কনটেইনার দিয়ে আটকে দেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পাকিস্তানের সংসদে একটি বিল পাসের মাধ্যমে ইসলামাবাদে র‌্যালি-সমাবেশ বন্ধ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীনরা। ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং জননির্দেশনা বিল-২০২৪’ নামের বিলটির আওতায় ‘রেড জোন’ ও ‘উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরির ক্ষমতা পেয়েছে সরকার। পিটিআইয়ের নেতাদের অভিযোগ, সরকার তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে, পাঞ্জাব সরকারের কারফিউ উপেক্ষা করেই ফয়সালাবাদ, ভাওয়ালপুরসহ কয়েকটি শহরে পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশি বাধা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল উপেক্ষা করে বিভিন্ন শহরে সমাবেশ এবং মিছিল করে তারা। পাঞ্জাব সরকারও বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি শহরের প্রবেশপথগুলোয় কনটেইনার বসিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের এমন পদক্ষেপের কারণে পাঞ্জাব আইজিপি উসমান আনোয়ারের পদত্যাগের দাবি জানায় পিটিআই। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবের শহর তিনটি থেকে দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে পিটিআই। এ ছাড়া অনেক কর্মীর বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়েছে। পিটিআই দাবি করেছে, গত বুধবার এক দিনেই তাদের অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারাগার থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলা করছেন তিনি। ইমরানের বিরুদ্ধে এখনো কয়েক ডজন মামলা চলছে। সব মামলা থেকে জামিন এবং দণ্ড স্থগিত করে এখনই ইমরান খানের জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।