আন্দোলনে সাড়া না দেওয়া নিয়ে শ্রমিকদের সংঘর্ষ

গাজীপুরে এক পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে অন্য কারখানার শ্রমিকরা সাড়া না দেওয়া নিয়ে দুই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর জিরানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সাভার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দিয়েছে তৈরি পোশাকশ্রমিকরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর জিরানী এলাকার রেডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ করছিল। এ সময় পাশের আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে শামিল হতে আহ্বান জানায়। কিন্তু আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা রেডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ না করায় ওই কারখানার শ্রমিকরা আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় হামলা চালিয়ে কারখানার গেট, আসবাবপত্র এবং জানালা ভাঙচুর করে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকালে আইরিশ কারখানার শ্রমিকরা রেডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

এ সময় দুই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে শিল্পপুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে সকাল ১০টার দিকে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্পপুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া, জিরাবো, পুকুরপাড়, নরসিংহপুর ও জামগড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কারখানার সামনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এর আগে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশের পর কাজে যোগ দিয়েছেন অধিকাংশ কারখানার শ্রমিকরা।

তবে শিল্প-কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, বহিরাগত হামলা, অযৌক্তিক দাবি, কর্মবিরতিসহ চলমান সহিংসতা, বেআইনি ধর্মঘট, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ১৩টি কারখানায় অনির্দিষ্টাকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ১২টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজ না করে কর্মবিরতি পালন করছে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো হলো জহরচান্দা এলাকার রাতুল গ্রুপ, আল্পস অ্যাপারেলস লিমিটেড, জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার তাহারাত ফ্যাশন, দুর্গাপুর এলাকার ফ্যাশন ডট কম লিমিটেড, বুড়িপাড়া এলাকার ইথিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেড, কাঠগড়া এলাকার ডুকাটি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড, এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, এআর ওয়েট প্রসেসিং লিমিটেড, ফিউচার ক্লোথিং লিমিটেড, এফজিএস ডেনিমওয়্যার লিমিটেড, আঞ্জুমান গার্মেন্টস।

অন্যদিকে ফ্যাশন হাউজ, মিলিনিয়াম টেক্সটাইল, এভারব্রাইট সোয়েটার, নাঈম নিট, জিহান গ্রুপের জিহান গার্মেন্টস, আজমাত গ্রুপের আজমাত অ্যাপারেলস লিমিটেড, জেড-থ্রি কম্পোজিট নিটওয়্যার, জি-থ্রি ওয়াশিং প্ল্যান্ট লিমিটেড, ছেইন অ্যাপারেল, কমফিট কম্পোজিট, এআর ওয়েট প্রসেসিং, জেনারেশন নেক্সট কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া জিরাবো এলাকার টেক্সটাউন গার্মেন্টসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার রাইজিং গ্রুপের অ্যাকটিভ কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহমুদ খালেদ বলেন, সকালে আমাদের কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদান করেছে। আমরা বিজিএমইএ ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় কোনো ধরনের অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পাশর্^বর্তী লুসাসা গ্রুপের কারখানাসহ অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা এসে আমাদের গেটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে হয়।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির জানান, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, এপিবিএনসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সেজন্য কঠোর নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়ান যায়নি। তবে বেশ কিছু কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে এবং কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।