ডেঙ্গু ও প্লাটিলেট আতঙ্ক

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েন প্লাটিলেট নিয়ে। প্লাটিলেট কমা বা বাড়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর তীব্রতা মাপা হয় না। প্লাটিলেট কমে গিয়ে নয় বরং রোগী সংকটাপন্ন বা মারা যায় ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে।

প্লাটিলেট কমার কারণ : রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রধান কারণ দুটি এক. প্লাটিলেট ধ্বংস হয়ে যাওয়া দুই. পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি না হওয়া। যখন রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে শুরু করে; তখন তাকে বলা হয়

থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণ হলো অ্যানিমিয়া, ভাইরাস সংক্রমণ, লিউকোমিয়া, কেমোথেরাপি, মদ্যপান এবং ভিটামিন-বি ১২ এর ক্যানসার বা পিত্তথলির রোগ। সেই সঙ্গে রক্তে ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ, ওষুধের প্রতিক্রিয়া এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাজনিত কারণে প্লাটিলেট ভেঙে যায়।

ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমলে : প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা ১,৫০,০০০৪,৫০,০০০। অনেক জ্বরেই এটা কমে, তবে ১,০০,০০০ নিচে কমে জটিল সময়ে। ক্লাসিকেল ডেঙ্গুতে কমলেও ১,০০,০০০-এর বেশি থাকে। জ্বর বা রক্তক্ষরণ থাকলেই তা ডেঙ্গু  হেমোরেজিক ফিভার নয়।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার হতে হলে প্লাটিলেট কাউন্ট ১,০০,০০০-এর নিচে থাকতে হবে বা হেমাটোক্রিট ২০ শতাংশ বেশি হতে হবে। এর সঙ্গে রক্তনালি লিকিংয়ের অন্য সমস্যা (যেমন প্রোটিন কমে যাওয়া, পেটে বুকে পানি জমা) থাকবে। ৮৯-৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট কমে ১০-২০ শতাংশের ক্রিটিক্যাল লেভেল (২০ শতাংশ)-এর নিচে যায়। ৫ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর মারাত্মক রক্তক্ষরণ জটিলতা হয়।

২০০০০-এর নিচে নামলে রক্তক্ষরণের ভয় থাকে। প্লাটিলেট যদি ৫০০০-এর কম হয় তখন ব্রেন, কিডনি, হার্টের মধ্য রক্তক্ষরণের ভয় থাকে। মেশিনে গুনলে ভুল হয় কারণ প্লাটিলেট ক্লাপেম থাকায় মেশিন অনেকগুলোকে একসঙ্গে একটা ধরে সংখ্যা নিরূপণ করে।

রক্তক্ষরণ হলে যদি প্রেশার কমে, পালস বাড়ে, হিমোগ্লোবিন ১০-এর কম হয়, হেমাটোক্রিট কমলে রক্ত দিতে হয়। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমার সঙ্গে অন্য অনেক (অন্তত আরও এগারটা) কারণে রক্তক্ষরণ হয়। এক ইউনিট প্লাটিলেট দিলে বাড়ে ২০,০০০; প্লাটিলেট দিলেও সংখ্যা প্রয়োজন মতো বাড়ে না। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় প্লাটিলেটের দরকার নেই। প্লাটিলেটে রিকভারিতে দেরি হয়।

চিকিৎসা : ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করালে খেয়াল রাখতে হবে সেখানে ফ্লুইড বা পানি মনিটরিং করা যায় কি না। এই মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ যন্ত্র, বিশেষজ্ঞ বা বিশেষ পরিচর্যার ঘরের দরকার নেই। বরং রোগীকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল দিতে হবে। এই তরল মুখে খাওয়ানো বা শিরায় দেওয়া হয়ে থাকে। আর ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কত তা ঘন ঘন না দেখে বরং রোগীর অন্যান্য বিষয়ে লক্ষ রাখুন। যেমন রক্তচাপ ঠিক আছে কি-না, রোগী পানিশূন্যতায় ভুগছে কি না, রক্তের পিসিভি বা হেমাটোক্রিট কেমন তা দেখা উচিত। যদি এমনটি হয় তাহলে পর্যাপ্ত তরল দিন বা ফ্লুইড কারেকশন করুন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আক্রান্ত হওয়ার ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম দিন পর্যন্ত ঠিকমতো ফ্লুইড (তরল) দিতে পারলেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।