চিনি অনেক রোগের সূচনা

চিনি, আমাদের সবার কমবেশি প্রিয়। সকালের চা থেকে শুরু করে সারা দিনে বিভিন্ন কমল পানীয়, কফি, রসগোল্লা, চকলেট, কেক, বিস্কুট কত কিছুই না খাচ্ছি চিনির তৈরি। শিশুকাল থেকেই চিনির প্রতি দুর্বলতা শুরু হয়।

এই চিনিকে স্বাস্থ্য গবেষকরা এখন সাদা বিষ বা হোয়াইট পয়জন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। দেহের বিভিন্ন রোগের সূত্রপাতের সঙ্গে চিনিযুক্ত খাবারের যোগসূত্র তুলে ধরছেন বিশে^র বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গবেষণা। চিনি যা ক্ষতি করে

ডেন্টাল ক্যারিজ : জীবদ্দশায় দাঁতের গর্তের জটিলতায় পড়েনি এমন সৌভাগ্য খুব মানুষের হয়। সঠিক নিয়মে নিয়মিত মুখ পরিষ্কারের অভাবে দাঁতের পৃষ্ঠে আঠালোভাবে লেগে থাকা অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া গোত্রীয় জীবাণু গৃহীত চিনিযুক্ত খাদ্যকণাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে, যেটি দাঁতের শক্ত আবরণকে ক্ষয় করে ডেন্টাল ক্যারিজ তৈরি করে। মুখের মধ্যকার ভালো জীবাণুদের ধ্বংস করতে চিনি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বয়স্ক দেখায় : রক্তে এক মিলি চিনি থাকলে চেহারায় পাঁচ মাস অতিরিক্ত বুড়োটে ছাপ পড়ে, চামড়াতে ভাঁজ পড়ে। ব্রণ বা একনিতেও চিনির খাবার বিশেষ ভূমিকা রাখে। মিডিয়া জগতের সবাই নিজেকে আকর্ষণীয় রাখতে চিনিমুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত।

ক্যানসার : শরীরের অন্যান্য ক্যানসারের পাশাপাশি কোলন ও ব্রেস্ট ক্যানসার তৈরির পেছনে দীর্ঘদিন চিনি খাওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। চিনি দেহের কোষ বিভাজনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্যাটি লিভার : প্রায়ই আমাদের অনেকের আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে ফ্যাটি লিভার শব্দটি দেখা যায়। চিনি লিভারে চর্বি জমতে সাহায্য করে। আমাদের দেহের বেশিরভাগ কাজের জন্য লিভারের সুস্থতা অতি জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি জমলে লিভারের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, শুরু হয় ভয়াবহ সব স্বাস্থ্য জটিলতার।

ডায়াবেটিস : রক্তে অস্বাভাবিক চিনির উপস্থিতি এখন অনেক মানুষের মধ্যে। বিশেষ এক গবেষণা বলছে, প্রায় ৯ লাখ মহিলার ওপর গবেষণা করে দেখেছে যে, এদের মধ্যে যারা প্রতিদিন এক গ্লাস চিনিযুক্ত তরল পান করে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ। ডায়াবেটিসমুক্ত থাকতে চাওয়ার প্রথম শর্ত চিনি বর্জন। আর যাদের ডায়াবেটিস আছে, চিনি তাদের জীবন শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়।

ক্ষুধা ও অলসতা বৃদ্ধি : চিনি শরীরের লেপটিন নামক হরমোনকে কমিয়ে দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত রাখে। আর বেশি খাওয়া ও অলসতা থেকে শরীরে খারাপ চর্বি জমার ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে নানা রোগের সৃষ্টি হয়।

বিষণœতা : গুরুত্বপূর্ণ কিছু হরমোনের তারতম্যের জন্য যারা অতিরিক্ত চিনি খায়, তাদের মধ্যে বিষণœতা দেখা যায়। এত কিছু জেনেও আমরা চিনিতে আসক্ত। এই আসক্তি কমাতে হবে। মৌসুমি ফল, শাকসবজি, ডিম, চিনিমুক্ত গ্রিন টি, দুধ, টক দইসহ স্বাস্থ্যবান্ধব কোনো খাবারেই চিনির উপস্থিতি মিলবে না। সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে চিনির ব্যবহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে বিশুদ্ধ মধু এমনকি গুড়কেও চিনির চেয়ে নিরাপদ মনে করা হয়। সচেতন হতে হবে নিজ স্বাস্থ্য রক্ষায়।