লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২৫০ টন সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ফেরদৌস আলমের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে অভিযান জালিয়ে ৫৪ টন চাল উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার ভোটমারী খাদ্যগুদামের ওই কর্মকর্তা ফেরদৌস আলমকে হাতীবান্ধা উপজেলার দৈইখাওয়া সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক।
কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ভোটমারী ইউনিয়নের খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) ফেরদৌস আলম গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫টি ট্রলিযোগে গুদাম থেকে চাল সরিয়ে ফেলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক গুদামে অভিযান চালান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহির ইমাম। এ সময় চালের হিসাবে গরমিল ও গুদাম কর্মকর্তা লাপাত্তা থাকায় গুদাম সিলগালা করা হয়।
আত্মসাৎ করা চাল উদ্ধারে জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান চালান ইউএনও। শুক্রবার উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদিঘী এলাকার চালকল মালিক একরামুল হকের গুদাম থেকে ৩০ টন ওজনের ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে তুষভা-ার রওশন ফিলিং স্টেশন থেকে চালবোঝাই একটি ট্রাক স্থানীয়রা আটক করেন। পরে ওই ট্রাকে থাকা ৪৯০ বস্তা (২৪ টন) চাল ইউএনও জব্দ করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক এনামুল হক বলেন, ভোটমারী সরকারি খাদ্যগুদামের পরিদর্শক ফেরদৌস আলম গোপনে গুদাম থেকে তিন কোটি টাকা মূল্যের ২৫০ টন চাল সরিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।
চাল খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তদন্তে শুক্রবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, এটি দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ার কারণে অভিযোগটি কুড়িগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা জহিরুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যেহেতু খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা আছে, সেহেতু কী পরিমাণ চাল খোয়া গেছে, সেটি জানা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন গুদামটির সিলগালা খুলে দিলে সেটি জানা যাবে।’ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’