নাটোরের গুরুদাসপুরে বামনকোলা ও গারিষাপাড়ায় দুই হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে গত ১৫ বছর ধরে সঠিকভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফসলের মাঠ থেকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়ে সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলার বামনকোলা ও গারিষাপাড়া ফসলের মাঠটিতে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি রয়েছে। ১৫ বছর আগেও এসব জমিতে কৃষকরা তিন ফসল উৎপাদন করতেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই অপরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ করার কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে পাঁচ শতাধিক কৃষককে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, মাঠের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে একটি পাকা সড়ক। সেখানে ২০ বছর আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি কালভার্ট (ব্রিজ) নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৫ বছর আগে কালভার্টটি ভেঙে ফেলে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি নির্মাণ করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় কালভার্টটি। সেই থেকেই গারিষাপাড়া ও বামনকোলা মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বামনকোলা গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বামনকোলা মাঠে তার পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। তার বাবা সেই জমিতে এক সময় তিন ফসল উৎপাদন করতেন। এখন তিনি এক ফসল চাষ করতেই অনিশ্চয়তায় থাকেন। জমি চাষাবাদ করেই তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ বছর বর্ষা ও টানা বৃষ্টিতে ধানের জমি প্রায় ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আর তিনদিন বৃষ্টি হলেই ধান ডুবে যাবে। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে ধান ডুবে গেলে। অতি দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান।’
গারিষাপাড়া গ্রামের সমাজসেবক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের জমি রয়েছে এই মাঠে। প্রতিটি কৃষক এই মাঠ থেকে ফসল উৎপাদন করে নিজেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘ ১৫ বছর জলাবদ্ধতার কারণে দুইবার ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের কথা চিন্তা করে অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা দরকার।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, ‘ওই মাঠের জলাবদ্ধতা নিরাসনের জন্য আগেও উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। গ্রামের অভ্যন্তরীণ ঝামেলার কারণে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যায়নি। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সরেজমিনে গিয়ে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা আক্তার বলেন, ‘কৃষকদের সহযোগিতায় অতি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরাসন করা হবে।’