শেরপুরে বন্যায় পানিবন্দি শাশুড়িকে উদ্ধার করতে গিয়ে মেয়ের জামাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৬ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা ইউনিয়নের পূর্ব চিকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত উজ্জল মিয়া (৪০) নকলা উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত আমরত আলীর ছেলে। উজ্জল পেশায় দিনমজুর।
জানা যায়, পাঁচদিন ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ৫ উপজেলা এবং ময়মনসিংহের কিছু জায়গায় ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন উজ্জল মিয়ার শাশুড়ি উম্মে কুলসুম। গতকাল রবিবার সকালে পানিবন্দি শাশুড়িকে উদ্ধার করতে ছুটে যান উজ্জল। শাশুড়িকে বাঁচাতে পারলেও নিজে পানিতে পড়ে যান। পরে পানির স্রোতে ভেসে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ময়মনসিংহ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে উজ্জলের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় ভাই এরশাদ আলী বলেন, আমার ছোট ভাই উজ্জল পানিবন্দি শাশুড়িকে উদ্ধার করতে রবিবার সকাল আটটায় বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তার শাশুড়িকে উদ্ধার করতে পারলেও নিজে পানিতে পড়ে যায়। স্রোত বেশি থাকায় উজ্জল আর ওঠতে পারেনি। আমরা দুপুর ১ টায় খবর পেয়ে সেখানে যাই। পরে ডুবুরি দল এসে বিকেল ৪টায় উজ্জলের লাশ উদ্ধার করে।
নকলা ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহাম্মেদ লালন বলেন, উজ্জল একজন দিনমজুর ছিল। তার এক স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে আছে। তার সংসারে উপার্জনক্ষম তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার পরিবারের দিকে যেন সরকার দৃষ্টি দেয় এটা আমরা চাই।