তবে কি চাকরিই কাল হয়েছিল আরমানের?

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যালয়ের মেঝেতে পড়েছিল নৈশপ্রহীর নিথর দেহ। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে ডিউটিরত নৈশপ্রহরী মো. আরমান হোসেনকে (২৪) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে উপজেলার জা‌টিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।

হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ঝর্ণা আক্তার বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর সন্দেহজনক দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আরমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তকরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। আরমানের মাথার দুপাশে ও ঘাড়ে কোপের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরমান হোসেন ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে যোগদান করেন।

আরমানের মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, '২০২১ সালে আরমান চাকরি পাওয়ার সময় তার সাথে আরও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী ছিল। কিন্তু আমার ছেলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দেয়। আমার প্রতিবেশী মো. আবুল কাশেমের ছেলে মো. মাসুমও উক্ত নৈশপ্রহরী পদে প্রার্থী ছিল। চাকরি না হওয়ায় মাসুম ও তার পরিবারের লোকজন আমার ছেলের সাথে শত্রুতা শুরু করে। বিভিন্ন সময় আমার ছেলেকে হত্যা করবে বলে হুমকিও দিয়ে আসছিল। আমার ধারণা নৈশপ্রহরী নিয়োগের শত্রুতাবশত মো. মাসুম এবং তার ভাই মো.মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

এতে প্রশ্ন উঠছে তবে কি চাকরিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল আরমানের জীবনে!

জাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, 'নৈশপ্রহরী নিয়োগের সময় আরমান ও মাসুমসহ মোট ৫ জন প্রার্থী ছিল। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরীক্ষা নিলে আরমান উত্তীর্ণ হয়। তখন আরমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি খুব ভালো ছেলে ছিলেন। তদন্ত সাপেক্ষে জাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমি আরমানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয়রা জানান, 'বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানায়, 'মামলার সুষ্ঠু তদন্তের এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে নিহতের পরিবারের দাবি নৈশপ্রহরী পদে আরমানের চাকরি হওয়ার পর তার সাথে যারা একই পদে চাকরি প্রত্যাশী ছিল তাদের মধ্যে মাসুম নামের একজনের চাকরি না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে পারে। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে।

এদিকে নিহতের পরিবারের লিখিত ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত মাসুমের বড় ভাই মাসুদকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অপরদিকে আরমানের সাথে নৈশপ্রহরীর চাকরি প্রত্যাশী সেই মাসুম পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তাদের বাড়িতে আছেন তার স্বজনরা। পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, 'নৈশপ্রহরী আরমান নিহতের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাসুমের বড় ভাই মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাসুমকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'