সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা দিল্লিতে খোঁজ করেছি, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও খোঁজ করেছি। কনফারমেশন অফিশিয়ালি কেউ দিতে পারেননি।’
এদিকে গতকাল বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দিল্লি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে চলে গেছেন এ জাতীয় সব খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক সূত্র বিবিসি বাংলার সংবাদদাতাকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা দিল্লিতে গত সপ্তাহে যেভাবে ছিলেন, এ সপ্তাহেও ঠিক একইভাবে আছেন। তবে তিনি দিল্লিতে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত জানায়নি।
দিল্লির সাউথ ব্লকে একটি উচ্চপদস্থ সূত্র বিবিসির সংবাদদাতাকে এমনও বলেছেন, ‘যে পরিস্থিতিতেই আসুন না কেন, শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতের সম্মানিত অতিথি। তিনি যদি পরে তৃতীয় কোনো দেশে যানও, সেটা নিয়ে আমাদের লুকোছাপা করার তো কোনো কারণ নেই!’
ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারা ট্রাভেল পাস নিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ মিশন ট্রাভেল পাস ইস্যু করতে পারে শুধু দেশে ফেরার জন্য, অন্য দেশে যাওয়ার জন্য নয়। অন্য দেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন পড়ে। তারা যদি দেশে ফিরতে চান, ট্রাভেল পাস ইস্যু করা যেতে পারে এবং তারা দেশে ফিরে আসতে পারেন।’ আদালত চাইলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
ঢাকায় ইতালি দূতাবাস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ২০ হাজার ভিসা আবেদন নিষ্পত্তি করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অনেক ভিসা আবেদন আটকে আছে। ২০ হাজার ভিসা কেস রোম থেকে ক্লিয়ার্ড হয়েছে। সে ভিসাগুলো দেওয়ার অগ্রগতি খুব কম। ইতালি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি আশ^স্ত করেছেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যে এ ভিসাগুলো দিয়ে দেবেন। এ ছাড়া, ইতালি দূতাবাস অতিরিক্ত দুই-তিনজন কর্মকর্তা নিয়ে আসছে কাজ করতে, তারা এলে কাজের গতি বাড়বে।’
ইতালি দূতাবাসে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন জমা আছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত ইতালির ওয়ার্ক ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে ভিসা ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাদের নানা ভোগান্তিসহ এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আবেদন করেন ভিসাপ্রত্যাশীরা।
এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিধিদলকে মিছিল-মিটিং ও ঘেরাও কর্মসূচি না করার জন্য বলেছি। এগুলো করলে ভিসাপ্রত্যাশীদের কোনো লাভ হবে না, দেশেরও কোনো লাভ হবে না। কারণ তারা যদি ভয় পান, তাহলে বরং আরও অফিসার চলে যাবেন। দেখা যাবে, ভিসা ইস্যু হচ্ছেই না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতালি দূতাবাসকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে। তবে ভিসা দেওয়া বা না দেওয়া একটি দেশের সার্বভৌম অধিকার। ভিসা কেন দেওয়া হয়েছে বা দেওয়া হয়নি, সেটা আমরা জিজ্ঞাসা করতে পারি না।’
লেবানন থেকে প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘লেবানন থেকে যারা ফিরে আসতে চান, তাদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তাদের (প্রবাসীদের) বলা হয়েছে, ওয়ার জোন থেকে তারা যেন একটু উত্তরে সরে যায়। আমরা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম) অনুরোধ করেছি, তারা যেন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে দেয়, যাতে তারা চলে আসতে পারেন।’