নড়াইলে নার্সদের কর্মবিরতি, রোগীদের দুর্ভোগ

এক দফা দাবিতে নড়াইলে নার্সদের কর্মবিরতি চলছে। তাই দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। সেবা না পেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে ক্লিনিকে ছুটছে। জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসকরা সেবা দিলেও হাসপাতালের বিছানায় কাতর রোগীদের অনেকে। অবশ্য কর্মবিরতিতে থাকা নার্সরা দাবি করছেন, জরুরি সেবার জন্য ১০ জন নার্স দায়িত্ব পালন করছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু নার্সরা কর্মবিরতি পালন করায় বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে। জরুরি বিভাগ থেকে ডাক্তার দেখানোর পর বেডে দিয়েছে। কিন্তু নার্সরা কর্মবিরতি পালন করায় কোন চিকিৎসা শুরু হয়নি। আমি মনে করি নার্সদের যদি ন্যায্য দাবি হয় তা পূরণ করে দ্রুত তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা দরকার।’

মাগুরা জেলার নহাটা গ্রামের সোহেল রানা বলেন, ‘আমি হাত ভেঙে যাওয়ায় নড়াইল সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছি। কিন্তু নার্সরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করায় ইনজেকশন বা অন্যান্য চিকিৎসা পাচ্ছি না। যার কারণে কষ্ট বেশি হচ্ছে।’

সদর উপজেলার সরশপুর গ্রামের নিত্যানন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘গত চারদিন যাবৎ হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমাদের সিজারের রোগীর অবস্থা বেশ খারাপ। কিন্তু নার্সরা বাইরে গিয়ে বসে থাকায় আমরা কোন সেবা পাচ্ছি না। নার্সরা তাদের দাবি নিয়ে ব্যস্ত। অথচ অনেক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার অনেকেই সেবা না পেয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।’

জানা গেছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রার পদ থেকে সকল ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপসারণপূর্বক উক্ত পদগুলোতে নার্সিং কর্মকর্তাদের পদায়নের ১ দফা দাবিতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলেছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে বুধবার নড়াইল সদর হাসপাতাল চত্বরে কর্মবিরতি পালনকালে তাদের দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য দেন সংস্কার পরিষদ নড়াইল জেলা শাখার আহবায়ক শাহিনুর খাতুন, সংস্কার কমিটির সদস্য পলি কুন্ডু, মুজিদা খানম ও সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি পারভীনসহ অনেকে।