কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বেড় কালোয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সোহরাব আলী শেখের ছেলে হুমায়ন শেখ (২৭) ও সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন (৩৪)। তারা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারেরর সময় আগে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভূয়া কাগজপত্রাদি তৈরি করে কয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করতেন জেলা যু্লীগের সভাপতি ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার।গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এরপর কয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি জিয়া খান বালু উত্তোলনের শুরু করেন। এতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি কর্মী ইউনুছ আলী ও তার সমর্থকরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে জিয়া শ্রমিক দিয়ে বালু তোলা শুরু করলে দুপুরে গুলির ঘটনা ঘটে।
আহত হুমায়ন শেখ বলেন, প্রায় ২০জন মিলে পদ্মা নদীর বেড় কালোয়া এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছিলাম। বেলা দেড়টার দিকে দুইটি ট্রলারে ১৫ থেকে ১৭ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রধারীরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় আমরা দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। আমার হাটুর উপরে ১টা ও নিচে ৩টা ছড়রা গুলি লেগেছে।
হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে যারা আসছিলেন তারা সবাই অপরিচিত। তবে নৌকা থেকে একজনের মুখে শামীমের নাম উচ্চারণ করতে শুনেছি। গত সোমবার থেকে দিন এক হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করছিলাম। স্থানীয় জিয়া খান তাকে বালু তোলার কাজ দিয়েছেন।
আহত শিমুল বলেন, চোখে ছড়রা গুলি লেগে গুরুত্বর জখম হয়েছি।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন কয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জিয়া খান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বালু উত্তোলনের সময় দুর্বৃত্তরা গুলি করে চলে গেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি কর্মী ইউনুছ বলেন, আমি কোথাও বালু তুলছি না। তবে শুনেছি কয়েকজন বালু তুলছেন।
কয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান বলেন, সরকার পতনের আগে আওয়ামী লীগের লোকজন অবৈধভাবে বালু তুলতো। এখন সুবিধাভোগীরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া জান্নাত বলেন, দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আসেন। একজনকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জানতে পেরেছি বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘাতে দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের শরীরে ছড়রা গুলি লেগেছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সাল থেকে পদ্মা নদীতে বালু ইজারা দেওয়া বা উত্তোলন করা নিষিদ্ধ রয়েছে।
গণপিটুনিতে রেনু হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনকে যাবজ্জীবন
ঊর্মির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ
ছুটিতে কুয়াকাটায় নামবে পর্যটকের ঢল, ৭০ শতাংশ রুম বুকিং
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের জামিন
পাকিস্তানে ‘র’ এর এজেন্ট গ্রেপ্তার
পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম
বিএনপির মামলায় সাবেক দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আসামি যুবদল নেতা
বিশ্বের সেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই বাংলাদেশের একটিও