সাবেক বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর জামিন বাতিল করে তার শাস্তি দাবি করেছে গুম ও খুনের শিকার শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এজন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
বুধবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘খুন ও গুমের শিকার শহীদ পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। এ সময় সাবের হোসেন চৌধুরীর ফাঁসির দাবি তোলেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা সাবের হোসেন চৌধুরীর ফাঁসি দেখতে চাই। এজন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বলতে চাই সাবের হোসেনকে আবার গ্রেপ্তার করা হোক। তাহলে আমরা ভাবব আপনারা নিরপেক্ষ সরকার।
খিলগাঁও থানার সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির বাবা ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করছিল যে তাকে মেরে ফেলতে হলো? আমার ছেলে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন করত। এটা উনার (সাবের হোসেন চৌধুরী) সহ্য হয়নি। এজন্য আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের হত্যাকারী (সাবের হোসেন চৌধুরী) পাঁচ দিনের রিমান্ড থাকার পরও কিভাবে কারামুক্ত হয়ে যায়? আমার সন্তানের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি রাজপথে থাকব।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে জানতে চাই আপনারা কার নির্দেশে চলছেন? তিনি কিভাবে কারামুক্ত হলেন? প্রয়োজনে আমরা আবার এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব। আপনারা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন আমরা ভেবেছিলাম বিচার পাব। কিন্তু আপনারা এটা কোন বিচার করলেন?’
প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ্য করে সমাজকর্মী ইউনুস মৃধা বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের কাছে জানতে চাই, যে হাত এত রক্তে রঞ্জিত সে কিভাবে জেল থেকে বের হয়ে আসে? কিভাবে ৬-৭টা হত্যার আসামিকে একদিনের মধ্যে জামিন দেওয়া হয়? এটা কি আমরা মেনে নিতে পারি? এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
মাসুদ আহমেদ মিলন নামের একজন বিএনপি কর্মী বলেন, ‘খুনের মামলার আসামি যদি দুই দিনে বের হয়ে যায় তাহলে বাকি খুনিরাও একই রেফারেন্স দেবে। তিন খুনের আসামিকে আপনারা কিভাবে মুক্তি দিলেন? আপনারা সাবের হোসেনকে ভদ্রলোক ভাববেন না। আপনারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। না হলে আমরা ১৬ বছর আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি, এখনো চালিয়ে যাব। আপনাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করতে বাধ্য হব।’
প্রসঙ্গত, সাবের হোসেন চৌধুরী সর্বশেষ সংসদে রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।