গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২ হাজার ১৯টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। এসব সড়কবাতি নষ্ট হলে তা নতুন করে লাগানোর নিয়ম। কিন্তু পৌরসভার ২ হাজার ১৯টি সড়কবাতির মধ্যে এখন সচল আছে মাত্র ৬০০টি। বাকি ১ হাজার ৪১৯টি নষ্ট হলেও তা সারানোর উদ্যোগ নেই। অর্থাৎ পৌরসভার ৭০ শতাংশ বাতিই এখন অচল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার কড়ইতলী এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি সড়কে ২২৬টি সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। এর বেশিরভাগই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কয়েকটি বাতি নিভু নিভু জ¦লছে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটি হলেও তা সারানো হচ্ছে না।
৮ নম্বর ওয়ার্ডটি পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হিসেবে বিবেচিত। শিল্পাঞ্চলখ্যাত মাওনা চৌরাস্তা এ ওয়ার্ডের অংশ। এতে আবাসিক মানুষের বসবাস অনেক বেশি। ব্যাংক-বীমা, বড় বড় শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ ওয়ার্ডে। গুরুত্ব বিবেচনায় এখনকার ২১টি সড়কে ৩০৫টি সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। এসব বাতির মধ্যে ২৫০টি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১১টি সড়কে ২৩৪টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি সড়কে ১২০টি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি সড়কে ১৭৫টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫টি সড়কে ১৪০টি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি সড়কে ৩২৫টি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি সড়কে ২০৫টি এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১২টি সড়কে ২৭৯টি সড়কবাতির লাগানো হয়েছে। এসব সড়কবাতির ৭০ শতাংশই এখন অচল। পৌর ভবনের আশপাশের সড়কবাতিগুলোও বহুদিন ধরে নষ্ট।
পৌরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব বাতির জন্য পল্লী বিদ্যুতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ মিটার বরাদ্দ নেওয়া আছে। সব সড়কের লাইট জ¦ালানোর বিপরীতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। প্রতিটি সড়কের নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট খুঁটিতে বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করা আছে। প্রচলিত বিদ্যুতের দামে প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করা হয়।
সরেজমিন বিভিন্ন সড়কে ঘুরে সড়কবাতির বেহাল অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। কোনো খুঁটিতে বাতি লাগানোর অ্যাঙ্গেল ঝুলে আছে, কোনোটিতে বাতির হোল্ডার নেই। আবার কোথাও কোথাও তার ছিঁড়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে শুধু স্ট্যান্ড ঝুলে আছে। বিভিন্ন স্থানে দিনেও বাতি জ¦লতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা নামমাত্র পৌরসভায় বসবাস করি। কাগজপত্রে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এটি। কিন্তু নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নেই পর্যাপ্ত সড়কবাতি। রাস্তাঘাট বেহাল। বছর ঘুরলেই আমরা নিজ দায়িত্বে পৌরকর দিয়ে আসি। অথচ পৌরসভায় একটি নাগরিক সনদ নিতে গেলেও কত যে ভোগান্তি পার করতে হয় তা কেবল ভুক্তভোগীরাই টের পান। ১০-২০ গুণ টাকা ছাড়া কোনো সেবা মিলে না। মানুষ নিরুপায় হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে এ পৌরসভায় বাস করে।’
শ্রীপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্ষায় একটু বেশি নষ্ট হয় সড়কবাতি। আমাদের ভিম লিফট গাড়িটি (খুঁটিতে কাজ করা উঁচু গাড়ি) অনেক দিন ধরে নষ্ট থাকায় নিয়মিত মেরামত কাজে বিঘœ ঘটছে। আমরা এটা নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, দ্রুত ভিম লিফট গাড়ি মেরামতের জন্য বাজেট পাব আর সড়কবাতিগুলোও সচল হবে।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তার বলেন, ‘আমাদের পৌরশহরে ২ হাজার ১৯টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ সড়কবাতি এখন সচল আছে। বলা চলে প্রায় ৭০ শতাংশ সড়কবাতিই বিকল হয়ে পড়ে আছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। দ্রুত নষ্ট বাতিগুলো সারানো হবে।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজিব আহম্মেদ বলেন, ‘আমি অল্প কদিন হয়েছে এ স্টেশনে যোগদান করেছি। এর কিছুদিন পরই আমাকে পৌরসভার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সরাতে একটু সময় লাগবে। তবে আশা করছি, দ্রুত সময়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সড়কবাতিগুলো সচল করতে পারব। আমরা প্রতিটি সড়কবাতি সচল রাখতে বদ্ধপরিকর।’