ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে। মহাসড়কের এই অংশে যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অংশ পাড়ি দিতে সাধারণত সময় লাগে ১০-১৫ মিনিট। অথচ কয়েকদিন ধরে দীর্ঘ যানজটের কারণে এই অংশটুকু পার হতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, যানজটের অন্যতম কারণ ওভারটেকিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড, লেন ভেঙে বিপরীত লেনে গাড়ি চালানো ইত্যাদি। এর মাত্রা আরও বেড়ে গেছে হাইওয়ে পুলিশের যানজট নিরসনের ঢিলেঢালাভাবে।
গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, বরপা, রূপসী, বরাবো, বিশ^রোড ও যাত্রামুড়া এলাকায় দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার যানজটের চিত্র দেখা যায়।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক। সড়কটি দিয়ে সিলেট, ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করে। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো নামানো, নিয়ম ভেঙে বিপরীত রুট দিয়ে গাড়ি চলাচল, সড়ক প্রশস্থ কম হওয়া, হঠাৎ করে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে বিশ্বরোড, বরপা ও ভুলতা এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে যানজট নিরসনে তৎপরভাবে কাজ করতে দেখা যায়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট শুরু হয় দুপুর থেকে, আর তা স্থায়ী হয় রাত পর্যন্ত। এ চিত্র যেন নিত্যদিনের।
রাসেল নামে এক বাসচালক বলেন, ‘আগে পুলিশ চাঁদা নিত, অহন চাঁদা দিতে অয় না। এর লাইগা সড়ক যানজট লাগলেও পুলিশ কাজ করে না। পুলিশের উপরি ইনকাম কইমা গেছে, তাই হেরা আগের মতন কাজ করে না।’
সুমনা নামে এক যাত্রী বলেন, ‘রূপসী থেকে ভুলতা যাচ্ছিলাম। এ পথটুকু যেতে সময় লাগে ১০ মিনিট। কিন্তু আজ ২ ঘণ্টায়ও পৌঁছাতে পারিনি। প্রতিনিয়ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকছে। এ থেকে কবে রেহাই পাবো তা জানি না।’ এ ব্যাপারে ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’