নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত ১১ কোটির বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। আর এর মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্য চুরির এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
ডিএমপির কাফরুল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বাদী এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি গত মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা বেইজের এই হুবহু কপি দেওয়া হয় জাতীয় কম্পিউটার কাউন্সিলের দখলে। জাতীয় কম্পিউটার কাউন্সিল এবং আসামিরা এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার অনুমতি দেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ১১ কোটি ২১ লাখ এনআইডির তথ্য দেশ-বিদেশের প্রায় ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে ডিজিকন। এতে জনগণের নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তথ্য বিক্রি করে আসামিরা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
এ বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত ১১ কোটির বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় ২০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য চুরির ঘটনায় ডেটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সকালে উত্তর কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, নাগরিকের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্যের মিরর কপি তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বেআইনিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করার অভিযোগে রয়েছে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত এই তথ্যসমূহ ১৮০ টিরও বেশি দেশি-বিদেশি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে আসছে। প্রাথমিকভাবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহারে ২০ হাজার কোটি টাকার ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নাগরিকের তথ্যগুলো ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে। তবে এখানে কোন আইনে বা রাষ্ট্রের বা কার স্বার্থে এ কাজ করেছে, সেই বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কাদের কাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্লেষণ করা হবে। এ বিষয়ে কারা কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন সে বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।