লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে কাঁচা মরিচের দাম। চারদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি মরিচের দর ২৪০ থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা হয়েছে। গত ৬ তারিখে কাঁচা মরিচের দর ছিল ২৪০, আজ বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকায়।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে কিছু বাজারে দেখা যায়, শুধু কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকায়, সাথে অন্য সবজির দাম লাগামহীমভাবে দৌঁড়াচ্ছে। যেমন টমেটো প্রতি কেজি ২৫০, বেগুন ১০০, পেঁপেঁ ৮০, কুমড়া ৭০, উল কচু ৮০, শসা ৮০, করলা ৮০, আনাজি কলা ৬০, পটল ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আশরাফ উদ্দিন রিয়াজ বলেন, সবজি বাজারে গিয়ে হতাশ ও বিরক্ত হলাম। গতকাল ঢাকার কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচ ৫ কেজি কিনলাম ১০০০ টাকা, আজ হাজির হাটে কাঁচা মরিচ ৫০০ টাকা কেজি। তাহলে বোঝেন সাধারণ মানুষ কি ভোগান্তিতে পড়ছে? ঢাকা থেকে কিনলাম না। ভাবলাম গ্রামের বাজারে সবজির দাম কম হবে। অথচ এখানে ঢাকার চাইতে বেশি দাম চাচ্ছে।
মো. সোহেল বলেন, কাঁচা বাজারে গিয়ে মাথা ঘুরে গেছে, সবজির দর এত বেশি কিনতে ভয় লাগছে। সবকিছুর দাম অতিরিক্ত, কাঁচা মরিচ কিনে টাকা শেষ হয়ে গেছে। বাড়িতে মেহমান ছিল। এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে আধা কেজি কিনেছি। সবজি আধা কেজি করে কিনেছি।
উপজেলার হাজির হাট বাজারে সবজি ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন জানান, গত পরশু, কাল এবং আজ কাঁচা সবজির দাম লাগামহীন বেড়েছে। সবজির কেজি প্রতি ২০-২৫ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করতে হয়। ক্রেতারা সবজির দাম দিতে বিরক্ত হচ্ছে। কিছু করার নেই, সবজি-কাঁচা মরিচ আড়ত থেকে কিনে বিক্রি করতে হয়।
মো. সিরাজ জানান, প্রতিদিন সবজি, কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। আড়ত থেকে পাইকারি দরে কিনে বাজারে বিক্রি করছি। সবজি প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা বাড়ছে। কাচাঁ মরিচের কেজি তিন দিনে অর্ধেক বেড়েছে। আজ বিক্রি করছি ৫০০ টাকায় কেজি।
আড়তদার আব্দুল মুনাফ বলেন, দু'দিন আগে কাঁচা মরিচ পাইকারি ২৪০ টাকা। আজ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। মোকামে কেনার ওপর পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামও প্রতিদিন বাড়ছে। বাজারে যখন সবজির চাহিদা বাড়ে তখন দাম লাগামহীন বৃদ্ধি পায়। সোমবারে কাঁচা মরিচ ছিল ২৪০, মঙ্গলবার ২৯০, বুধবার ২৫০, বৃহস্পতিবার ৩৯০ টাকা। প্রতিদিনের রেটের ওপর বাজার দর নির্ভর করছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুদ্দিন মো. রেজা দেশ রূপান্তরকে জানান, বাজারে সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। কিছু অভিযান চালানো হচ্ছে। আড়তদারদের বেচা-কেনার স্লিপ দেখা হচ্ছে। যেখানে কেনার চাইতে খুচরা বিক্রি অধিক দেখা যাচ্ছে, সেখানে অভিযানে জরিমানা করা হচ্ছে।