সুদানে হামলা নিয়ে মুখ খুলল মিশর

সুদানে দুই জেনারেলের ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে সংঘাত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। অপরপক্ষে রয়েছেন বিদ্রোহী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) প্রধান জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো। গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে চলছে সংঘর্ষ। তবে গত ১ মাসে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ এর অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এরই মধ্যে সম্প্রতি রাজধানী খার্তুমের দক্ষিণে জেবেল মোয়ার কাছে আরএসএফের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিশরকে দায়ী করেছেন আরএসএফ প্রধান হামদান দাগালো। তবে কায়রো মোহাম্মদ হামদান দাগালোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, হেমেদতি নামে পরিচিত দাগালো দাবি করেন— রাজধানী খার্তুমের দক্ষিণে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জেবেল মোয়ার কাছে তার বাহিনীকে লক্ষ্য করে মার্কিন বোমা ব্যবহার করছে মিশর।

বুধবার অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা সমঝোতা না হলে এসব বোমা সুদানে পৌঁছাত না।’ ইরানসহ সংঘাতে হস্তক্ষেপকারী ছয়টি দেশের একটি এ হামলায় জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মিশর আমাদের সঙ্গে লড়াই করছে।’

গত ১৭ মাস ধরে সুদানে গৃহযুদ্ধ চলছে। সংঘাত শুরুর আগে সেনাবাহিনীরই অংশ ছিল আরএসএফ। এই গোষ্ঠী সরকার ও সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে দেশটিতে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এর ফলে এখন পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। যার মধ্যে সুদানের অভ্যন্তরে প্রায় ৮.১ মিলিয়ন এবং প্রায় দুই মিলিয়ন দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে

দাগালো আরও দাবি করেন, মিশর এসএএফ এবং আল-বুরহানকে প্রশিক্ষণ ও ড্রোন সরবরাহ করেছিল। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুদানে চলমান যুদ্ধে তার বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আরএসএফ নেতা যা বলেছেন তার সত্যতা খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে বলছে মন্ত্রণালয়টি।

এই সংঘাতে মধ্যস্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাশাপাশি প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে মিশর। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে আলোচনাও ব্যবস্থাও করেছিল।

এসএএফ সম্প্রতি খার্তুম এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সেনার রাজ্যে অধিকাংশ এলাকা দখল করেছে। যেখানে আরএসএফ প্রধান অভিযোগ করেন, কথিত মিশরীয় বিমান হামলা কৌশলগত জেবেল মোয়া অঞ্চল থেকে তাদের পিছু হটিয়েছে। দাগালো আরও দাবি করেন, তিগ্রায়ান, ইরিত্রিয়ান, আজারবাইজান এবং ইউক্রেনীয় ভাড়াটে সৈন্যরা দেশটিতে উপস্থিত ছিল।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এসএএফ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ ও ত্রাণ অবরুদ্ধ করেছে। আগস্টে সেনাবাহিনী যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছিল।

‘এই যুদ্ধ এক, দুই, তিন, চার বছরে শেষ হবে না। কেউ কেউ ১০ লাখ সৈন্যের কথা বলছে, শিগগিরই আমরা ১০ লাখে পৌঁছাব,’ বলেন দাগালো।

যুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধেও। জাতিসংঘে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত আল-হারিথ ইদ্রিস আল-হারিথ মোহাম্মদ গত জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

জানুয়ারিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংকলিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত চাঁদের উত্তরাঞ্চলীয় আমদজারাস হয়ে ‘প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার’ আরএসএফের কাছে অস্ত্র পাঠিয়েছে বলে তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সুদানের সামরিক সরকার সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। বরং তারা খার্তুমে আমিরাত রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বোমা হামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী আরএসএফের দিকে ইঙ্গিত করে।