মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে তাজমহলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী নাব্যতা সংকটে রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে একাধিকবার যমুনা থেকে পলি ও আবর্জনা অপসারণের দাবি উঠেছে। তবে সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) একটি বিশেষজ্ঞ দল সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, এতে আইকনিক তাজমহল ও তার আশপাশের স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়বে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, উচ্চ আদালতে এখনো আইআইটি বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনটি বিবেচনা করেনি। ৪ অক্টোবর বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
বিশেষজ্ঞ দলটি আদালতকে আরও জানিয়েছে, পলি অপসারণের ফলে নদীর তলদেশের স্তর ৫ থেকে ৬ মিটার কমে যাবে। এর ফলে পানি প্রবাহের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং উজানের দিকে নদীর তীরের ক্ষয় হবে।
গত সপ্তাহে জমা দেওয়া আইআইটি দলের প্রতিবেদনটি আগ্রা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টের সর্বোচ্চ আদালতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তাদের আবেদনে আগ্রায় ২০-২২ কিলোমিটার জুড়ে যমুনার তলদেশ পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
আগ্রা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আবেদনে বলা হয়েছে, তাজমহলের উত্তর সীমানা বরাবর নদীর তলদেশে প্রচুর পরিমাণে পলি, কাদা ও আবর্জনার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পর্যটকদের কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। এছাড়া কাদা ও আবর্জনার রাসায়নিক মাটিকে দূষিত করছে, যা ১৭ শতকের স্থাপনার স্থায়িত্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
আইআইটির দুই সদস্যের দলটি আগ্রায় সরেজমিন পরিদর্শন করে জানায়, নদীর তলদেশ থেকে পলি, আবর্জনা ও কাদা অপসারণ করা সম্ভব নয়।
কৈলাস মন্দির ঘাটের মতো অনেক ধর্মীয় স্থান এবং তাজমহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যমুনা তীরের খুব কাছে অবস্থিত। তাই নদীর তলদেশ ৫ থেকে ৬ মিটার খনন এই স্থাপনাগুলোর কাঠামোগত ও ভিত্তিগত স্থায়িত্বের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর তলদেশে আবর্জনা ও কাদার উপস্থিতি মূলত শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমনের কারণে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ উদ্ধার, আটক আরও ৩ বাংলাদেশি
সোভিয়েতের মহাকাশ জয় যুক্তরাষ্ট্রকে কেন লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল?
রিসোর্টের কক্ষে পড়ে ছিল সাবেক অতিরিক্ত সচিবের লাশ