প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিশ্বের ৩৭ কোটি নারী ও মেয়ে শিশু। প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন হেনস্তার কবলে পড়েছে। গত বুধবার জাতিসংঘ শিশু সংস্থা ইউনিসেফ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি পুরুষ ও ছেলে শিশুর যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। শৈশবে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজন পুরুষ ও ছেলে শিশু। বিশ্বে এই নির্যাতনের শিকার পুরুষ ও ছেলে শিশুর সংখ্যা ২৪ থেকে ৩১ কোটি।
যৌন নির্যাতন নিয়ে এই প্রথম একটি বৈশ্বিক সমীক্ষা করেছে ইউনিসেফ। আগামী মাসে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করা বিষয়ে কলম্বিয়াতে ‘গ্লোবাল মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স অন এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট চিলড্রেন’-এর একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এর আগেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল সংস্থাটি। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১২০টি দেশ এবং অঞ্চলের নারী ও শিশুদের ওপর জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক সমীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ বলেছে, গবেষণায় প্রাপ্ত ফলগুলো আইনকে শক্তিশালী করা এবং শিশুদের যৌন সহিংসতা শনাক্ত করতে ও সেগুলো নথিভুক্ত করাসহ কঠোর বৈশ্বিক পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরছে। এর সঙ্গে যদি ‘স্পর্শবিহীন’ যৌন সহিংসতাগুলোকেও আমলে নেওয়া হয়, তাহলে সংখ্যাটি বেড়ে ৬৫ কোটিতে। ফলে প্রতি পাঁচজনের একজন নির্যাতনের শিকার। স্পর্শবিহীন যৌন সহিংসতার মধ্যে অনলাইনে বা মৌখিকভাবে যৌন হেনস্তার কথা বোঝানো হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্যে দেখা গেছে, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় আনুমানিক ৭ কোটি ৩০ লাখ নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এই সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লাখ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৪ কোটি ৫০ লাখ নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতনের মুখে পড়েছে। উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার হেনস্তার শিকার হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ নারী ও শিশু। তবে সাব-সাহারান আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মেয়ে ও নারী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে বলে জানায় ইউনিসেফ। এই সংখ্যা ৭ কোটি ৯০ লাখ বা মোট সংখ্যার ২২ শতাংশ। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই সংখ্যা ৭ কোটি ৫০ লাখ। শতাংশের হিসাবে ওশেনিয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার মেয়ে ও নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩৪ শতাংশ।
শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতাকে নৈতিক বিবেকের একটি কলঙ্কের দাগ বলে অভিহিত করেছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তিনি বলেন, ‘এটি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা দেয়।